শেখর চন্দ্র, আসানসোল: বিকৃত করা হয়েছে শিশুদের জন্য রচিত কবিগুরুর সহজপাঠকে। বিকৃত করা হয়েছে নন্দলাল বসুর আঁকাকে। বাংলার শিশু পাঠ্যপুস্তককে নকল করে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে বামেরা (Left Front)। এই অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
বামেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) পোস্ট হয়েছে লড়াইয়ের সহজপাঠ। দিন বদলের বর্ণপরিচয়। সেই সহজপাঠের (Sahah Path) প্রচ্ছদে রয়েছে সিপিএমের পতাকা! কবিগুরুর লেখা ‘ছোট খোকা শেখে অ আ, শেখেনি সে কথা কওয়া’ পালটে হয়ে গিয়েছে ‘ছোট খোকা শেখে অ আ, হক কথা সোচ্চারে কওয়া’। ‘মুঠো হাত এ ঐ, চাকরিটা আনবই’। ‘ট ঠ ড ঢ করে গোল, দুর্নীতিকে কাঁধে তোল’ – লেখা হয়েছে এসব। নন্দলাল বসুর আঁকাতেও বদল আনা হয়েছে। এহেন সহজ পাঠের অনুকরণে লড়াইয়ের সহজপাঠ পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিপ্লব’ করছেন বামেরা। এই বদলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য লেফট ক্রিয়েটিভ’। এই নতুন সহজপাঠে যেমন রয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি। তেমন রয়েছে ইডি বা সিবিআই কিংবা বাংলার আবাস যোজনার দুর্নীতি প্রসঙ্গ ও আন্দোলনের কথা।
[আরও পড়ুন: বিশ্বজয়ের পুরস্কার, বাংলার তিন মহিলা ক্রিকেটারের হাতে অর্থ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী]
বাঙালির শিক্ষার ভিত্তি সহজপাঠকে ওলটপালট করে তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতে দেখে শাসক দল কিন্তু বেশ বিরক্ত। দুই সেরা বাঙালির অনন্যা সৃষ্টিগুলিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার কী ভাবে নেয় বাঙালি, পঞ্চায়েত নির্বাচনেই (Panchayet Election) তা বোঝা যাবে। শিল্পাঞ্চলের অনেকেই কিন্তু এনিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস একে রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে অপমান করার কৌশল হিসাবে দেখছে। যদিও সিপিএম নেতাদের চোখে এ এক শিল্পকলা।
বাঙালির সেই আবেগকেই অন্য ময়দানে ব্যবহারে মরিয়া সিপিএমের (CPM)সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধারা। তবে শুধু সহজপাঠ নয় পালটে ফেলা হয়েছে বর্ণপরিচয়ের শব্দও। সেখানে দুর্নীতির বর্ণপরিচয় নামে দিয়ে প্রচারে চমক আনতে চেয়েছে ‘দ্য লেফট ক্রিয়েটিভ’।
[আরও পড়ুন: ওবিসি মুসলিমদের সংরক্ষণ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে কর্ণাটকের বিজেপি সরকার]
পঞ্চায়েত ভোটের আগে নানা চমকদার প্রচার আনছে বামেরা। বিধানসভা ভোটের আগেও ডিজিট্যাল মাধ্যমকে পুরো মাত্রায় সাফল্য আনতে এবার কবিগুরু, বিদ্যাসাগরের সৃষ্টিই হাতিয়ার। আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন বিশ্বকবির অন্যন্য সৃষ্টিকে বিকৃত করে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা মানে তাঁর শিল্পকে অপমান করার সামিল। বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে এটা মাননসই নয়।
বিজেপির (BJP) রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ”রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যেদিন রবীন্দ্রনাথে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বড় হয়েছিল সেদিন তিনি অপমান হয়েছিলেন। তৃণমূলের মুখে এসব মানায় না। আধুনিক শিল্পকলা।” সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, ”অনুসরণ বা অনুকরণ যাই হোক না কেন তা তো রবি ঠাকুরকেই করা উচিত। রবি ঠাকুর সরাসরি যেমন রাজনীতি করতেন না কিন্তু স্বদেশী আন্দোলনে বা যে কোনও যুদ্ধে তিনি ব্যাঙ্গাতিক কবিতা লিখেছেন। রচনা লিখেছেন।তাই রবি ঠাকুরের সৃষ্টিকেই আমরা অনুসরণ করব। তার কটাক্ষ সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের যে ইতিহাস এখন পড়ানো হচ্ছে, তাদের পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করব না।”