আবাস যোজনার ঘরের বিনিময়ে নিয়েছিলেন কাটমানি, সেই অভিযোগে বুধবার রায়দিঘি বিধানসভার কৌতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের স্বামীকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করলেন এলাকার মহিলারা। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের আবাস যোজনার ঘর দেওয়া হয়নি। যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদেরই ঘর পাইয়ে দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ, কৌতলা পঞ্চায়েতের প্রধান যমুনা হালদারের স্বামী বাপ্পা হালদার গ্রামের মানুষকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছিলেন। বুধবার বাপ্পা হালদার কৌতলা ১৬৬ নম্বর বুথের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের মহিলারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি করতে থাকেন তাঁরা। তর্ক-বিতর্ক চলাকালীন উত্তেজনা চরমে উঠলে মহিলারা বাপ্পার উপর চড়াও হন। চলে এলোপাথাড়ি চড় থাপ্পড়। অবস্থা বেগতিক বুঝে পালাতে বাধ্য হন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী বাপ্পা।
গ্রামবাসী দীপঙ্কর গায়েনের অভিযোগ, প্রধান যমুনা হালদার হলেও পঞ্চায়েত চালাতেন তাঁর স্বামী বাপ্পাই। আবাস যোজনার ঘরের টাকা ঢুকতেই বাপ্পা তাঁর কাজ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চান। সেই টাকা অনেক কষ্টে হলেও তিনি তাঁকে দিয়ে দেন। আর এক গ্রামবাসী মঞ্জুশ্রী দাস জানান, যাঁরা এই প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তা তাঁদের আবাস যোজনার ঘর দেওয়া হয়নি। বরং যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁরা ঘর পেয়েছেন। অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকেই পাঁচ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন প্রধানের স্বামী বাপ্পা হালদার। এদিন গ্রামবাসীরা কাটমানি ফেরতের দাবিতে বাপ্পার উপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত বাপ্পা স্কুটি ফেলে রেখে কোনওরকমে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপরই পরিস্থিতি শান্ত হয়।
