ইলিশ ধরতে গিয়ে ফের বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি (Bay of Bengal Trawler Sinks)। দিন কয়েক আগেই বঙ্গোপসাগরে পূর্ব মেদিনীপুরের শংকরপুর এলাকার একটি ট্রলার ১৫ জন মৎস্যজীবী সমেত নিখোঁজ হয়ে যায়। রবিবার সেই ট্রলারটির খোঁজ পাওয়া যায়। ভিতরে মেলে ৯ মৎস্যজীবীর মৃতদেহ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সেই ঘটনায় শোক ও আতঙ্ক দেখা গিয়েছে মৎস্যজীবীদের মধ্যে। তার মধ্যেই আরও একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এফ বি সিদ্ধিবিনায়ক নামে ওই ট্রলারটি নিয়ে ১২ জন মৎস্যজীবী সমুদ্রে গিয়েছিল। কাকদ্বীপের বাসিন্দা লক্ষীনারায়ণ দাসের এই ট্রলারটি গত ১০ জুলাই সাগরদ্বীপের বেনুবন থেকে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে বের হয়। মাছ ধরে সোমবার রাতে উপকূলে ফেরার পথেই গভীর সমুদ্রে ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, উত্তাল সমুদ্রে ট্রলারের নীচের অংশের তক্তায় ফাটল ধরে জল ঢুকতে থাকে। গভীর সমুদ্রে ডুবতে শুরু করে ট্রলারটি। প্রাণ বাঁচাতে আর্তনাদ করতে থাকেন মৎস্যজীবীরা। ট্রলারটি ডুবে যায়। প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে কোনওরকমে ভাসতে থাকেন ওই ১২ জন মৎস্যজীবী।
বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তে সমুদ্র উত্তাল। প্রশাসনের তরফে আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই গভীর সমুদ্রে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে একাধিক ট্রলার।
আশপাশ থেকে কয়েকটি ট্রলার দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২ জনকেই উদ্ধার করে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, ট্রলারটিকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ইতিমধ্যেই ৬ মৎস্যজীবীকে নামখানার ঘাটে আনা হয়েছে। বাকিদেরও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সকলেই সুস্থ আছেন বলে খবর। কিন্তু কেন বঙ্গোপসাগরে এত ট্রলারডুবি হচ্ছে? জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তে সমুদ্র উত্তাল। প্রশাসনের তরফে আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই গভীর সমুদ্রে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে একাধিক ট্রলার।
উল্লেখ্য, শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে গত ২ জুলাই ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে রওনা হওয়ার পর গত ৬ জুলাই জয় মা কালী নামের ট্রলারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘের চরের কাছে উলটে যাওয়া অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ পর সেই ট্রলারের হদিশ মেলে। ট্রলারটিকে পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে এসে তল্লাশি চলে। ট্রলারের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ৯ মৎস্যজীবীর পচাগলা দেহ। নিখোঁজ বাকি ৬ জনের মধ্যে মঙ্গলবার আরও একজনের দেহ ওই ট্রলারের ভিতর থেকেই উদ্ধার হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত ওই ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০।
