shono
Advertisement
Nadia

রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত ফুলিয়ার ২ শিল্পী, শান্তিনিকেতনে প্রশিক্ষণ অভিনবের, শিল্পের দুরবস্থা ভাবাত মন্টুকে!

বুননে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপক অভিনব বসাক প্রখ্যাত রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী বিরেন কুমার বসাকের ছেলে। বাবার হাত ধরেই তাঁতশিল্পের সঙ্গে পরিচয় হলেও অভিনব নিজস্ব দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন।
Published By: Jaba SenPosted: 08:21 PM Aug 09, 2026Updated: 08:44 PM Aug 09, 2026

মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী মসলিন শিল্পকে নতুন নকশা ও বুননে তুলে ধরে জাতীয় স্তরে ফের সাফল্য পেল নদিয়ার ফুলিয়া। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবসে বুনন ও ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট—দুই পৃথক বিভাগে জোড়া রাষ্ট্রপতি পুরস্কার এল শান্তিপুরের ফুলিয়ায়। বুনন বিভাগে ৫০০/৫০০ কাউন্টের পিওর মসলিন সুতোর বিশেষ শাড়ি তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন অভিনব বসাক। অন্যদিকে, ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগে সাধারণ সুতোর বদলে সিল্কের সুতো ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের জামদানি কুর্তা ও দোপাট্টা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেলেন ডিজাইনার মন্টু বসাক। দুই শিল্পীরই বাড়ি শান্তিপুরের ফুলিয়ায়। জোড়া রাষ্ট্রপতি পুরস্কার জেলায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি শান্তিপুরবাসী।

Advertisement

রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন ডিজাইনার মন্টু বসাক। নিজস্ব ছবি।

বুননে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপক অভিনব বসাক প্রখ্যাত রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী বিরেন কুমার বসাকের ছেলে। বাবার হাত ধরেই তাঁতশিল্পের সঙ্গে পরিচয় হলেও অভিনব নিজস্ব দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তাঁর তৈরি ৫০০/৫০০ কাউন্টের পিওর মসলিন সুতোর বিশেষ শাড়িই এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল।

অভিনবের বাবা বিরেন কুমার বসাক জানান, ছেলের এই পুরস্কারে প্রাপ্তিতে তিনি অত্যন্ত খুশি। তাঁর কথায়, "পিওর মসলিনের ওপর তৈরি হয়েছিল শাড়িটি। মুঘল আমলে এই ধরনের মসলিন শিল্প ও সুতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে মূলত মুর্শিদাবাদেই এই ধরনের মসলিন তৈরি হয়। ৫০০ কাউন্টের এই সুতোর এক কিলোগ্রামের দাম প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সেই সূক্ষ্ম সুতোয় শাড়ি তৈরির পর তার দাম ছয় লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। তিনি আরও জানান, এই শিল্পের বিষয়ে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য অভিনবকে শান্তিনিকেতনে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক ডিজাইন ও শাড়ি তৈরি করে সাফল্য পেয়েছেন তাঁর ছেলে। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যোগ হল রাষ্ট্রপতি পুরস্কার।

অন্যদিকে, ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন ফুলিয়ার ডিজাইনার মন্টু বসাক। সাধারণ সুতোর বদলে সিল্কের সুতো ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের জামদানি কুর্তা ও দোপাট্টা তৈরি করে তাঁর এই স্বীকৃতি। মন্টু বসাক জানান, ছোট থেকেই তাঁর আক্ষেপ ছিল মসলিন শিল্পের ঐতিহ্য নিয়ে। তাঁর কথায়, তাঁদের পূর্বপুরুষদের বাসস্থান ছিল বর্তমান মুর্শিদাবাদে। মসলিন শিল্প ও নকশার জন্য মুর্শিদাবাদের নাম অতীত থেকেই জগৎজোড়া। কিন্তু সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির এলাকায় এই শিল্পের এমন অবস্থা কেন, সেই প্রশ্ন তাঁকে ছোটবেলা থেকেই ভাবাত।

স্কুল জীবন থেকেই নকশা তৈরির কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন মন্টু। পরবর্তী সময়ে ফুলিয়ার সোসাইটি তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডিজাইনার সুনীল কুমার দাসের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায়। সেখানে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি। সেই প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবেই এবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। পরিবারে স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে মন্টু বসাকের। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই স্বীকৃতিতে তিনি আপ্লুত। জীবনে যত কষ্ট করেছেন, এই পুরস্কার পাওয়ার পর তা যেন নিমেষেই মুছে গিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার আত্মবিশ্বাসও পেয়েছেন তিনি।

একদিকে মসলিনের মতো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিল্প, অন্যদিকে আধুনিক ভাবনায় নতুন নকশা ও বুনন—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই জাতীয় স্তরে ফের নিজের পরিচয় তুলে ধরল নদিয়ার ফুলিয়া। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবসে একই জেলা থেকে বুনন ও ডিজাইন ডেভেলপমেন্টে জোড়া রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ায় তাঁতশিল্পের শহর শান্তিপুর-ফুলিয়ার গর্ব আরও একবার জাতীয় মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement