ফের নির্মীয়মাণ বহুতলে বড় দুর্ঘটনা মধ্যমগ্রামে। রং করতে গিয়ে দড়ি ছিঁড়ে পড়ে মৃত্যু হল ২ শ্রমিকের। একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।প্রশ্ন উঠছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। যে সংস্থার হয়ে এই শ্রমিকরা কাজের বরাত পান, সেই সংস্থার দায়িত্ববোধ নিয়ে রীতিমতো ফুঁসছেন অন্যান্য শ্রমিকরা। এই মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত কাজ স্থগিত ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে।
মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরে তৈরি হচ্ছে এই বিশাল আবাসন, সেখানেই এই দুর্ঘটনা, নিজস্ব ছবি
জানা গিয়েছে, গঙ্গানগরে একটি বিশাল বহুতল তৈরি হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে সেখানে রং করতে উঠেছিলেন ৩ শ্রমিক। কিন্তু আচমকা ক্যাটেলের তার ছিঁড়ে পড়ে যান তাঁরা। তিনজনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। শনিবার তাঁদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়। একজন এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এই প্রথম নয়, এর আগেও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল একইভাবে।
স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, এখানে নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা হয় না। তাঁরা যে ক্যাটেলে বা দড়িতে উঠে কাজ করেন, তা আদৌ সুরক্ষিত কিনা, তাও যাচাই না করেই শ্রমিকদের তুলে দেওয়া হয়। এতে সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে অভিযোগ। ২ সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ঘটনায় শ্রমিকরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ।
উপরেং রং করতে উঠে দড়ি ছিঁড়ে এখানে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ শ্রমিকের, নিজস্ব ছবি
নির্মীয়মাণ বহুতলের এক নিরাপত্তারক্ষীর কথায়, ‘‘আমরা সবাই অন্যদিকে ছিলাম, আচমকা বিশাল একটা শব্দ হল। সঙ্গে সঙ্গে বিল্ডিংয়ের ওইপাশে গিয়ে দেখি, ৩ জন দড়ি ছিঁড়ে পড়ে গিয়েছে। একজন সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছে, আরেকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা জানান যে উনিও মারা গিয়েছেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি। কীভাবে কী কাজ হতো, সেগুলো আমরা কিছু জানি না।'' মধ্যমগ্রামে বিজেপির মণ্ডল ২ সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ কুণ্ডু নির্মাণ সংস্থার উপর দায় চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘গত বছরও এখানে এভাবে ২৬ বছরের এক ছেলে মারা গিয়েছিল। তখন আমি ওদের সেফটি নিয়ে বলেছিলাম কর্তৃপক্ষকে। এভাবে তো চলতে পারে না।এখানে এত বড় প্রজেক্ট চলছে, অথচ যারা কাজ করছে, তাদেরই নিরাপত্তা নেই! ওদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতেই হবে।''
