মায়োপিয়া— আজকাল প্রায়শই এ রোগের কথা শোনা যায়। এই সমস্যায় কাছের জিনিস পরিষ্কার দেখা গেলেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়। দীর্ঘক্ষণ বই পড়া, ফোন দেখা বা কম্পিউটার ও ট্যাবলেটের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় চোখকে ক্রমাগত কাছের দিকে ফোকাস করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় চোখের লেন্সের আকার সাময়িকভাবে বদলায়, যাতে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা যায়। আর এ থেকেই সূচনা হয় মায়োপিয়া জাতীয় রোগের।
বিশেষ করে কম আলোয় দীর্ঘক্ষণ কাছের কাজ করলে চোখের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কম আলোয় কাছের কাজ করার সময় চোখের মণি বেশি সংকুচিত হয় এবং রেটিনায় পৌঁছনো আলোর পরিমাণ কমে যায়। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে মায়োপিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে কেবল বড়রা নয় ছোটরাও দীর্ঘ সময় কাটায় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। কখনও আবার অনলাইন ক্লাস প্রভৃতির কারণে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না তাদের। ফলত মায়োপিয়ার সম্ভাবনা বাড়ে (Myopia in Children)।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
মায়োপিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা। এছাড়া দূরের লেখা পড়তে সমস্যা হওয়া, টেলিভিশন বা বোর্ড দেখতে চোখ কুঁচকে তাকানো এবং দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা বা পর্দার দিকে তাকানোর পর চোখের ক্লান্তি।
মায়োপিয়া দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে তা যাতে ঠেকানো যায়, তাই বাড়িতে নিজের মতো করেই কিছু অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
১। ঘরে পর্যাপ্ত আলো রাখুন: কম আলোয় বই পড়া বা মোবাইল দেখা এড়িয়ে চলুন। পড়াশোনা বা কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত আলো থাকা জরুরি।
২। কাজের মাঝে বিরতি নিন: দীর্ঘক্ষণ ফোন, কম্পিউটার বা বইয়ের দিকে একটানা তাকিয়ে না থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তত দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিন।
৩। বাইরে সময় কাটান: শিশু ও কিশোরদের উচিত প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় বাইরে খেলাধুলা করা বা প্রাকৃতিক আলোয় কাটানো।
৪। ফোন বা ট্যাবলেটের স্ক্রিন চোখের খুব কাছে রাখবেন না। চোখের সমস্যা ধরা পড়ার অপেক্ষা না করে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন।
মায়োপিয়া সবসময় পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ অনেক সময়ে বংশগত কারণও থাকে এমন রোগ হওয়ার। তবে যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধ করতে হবে সময় থাকতেই। বিশেষ করে শিশুদের দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে।
