একসঙ্গে স্কুলে যাতায়াত। টিফিন শেয়ার করে খাওয়া। ক্লাস রুমে পাশের সিটটা বন্ধুর জন্যই রাখা থাকত সব সময়। কখনও একে অপরের হাত না ছাড়ার 'প্রতিশ্রুতি' অজান্তেই দিয়ে ফেলেছিল তারা। মৃত্যুকালেও সেই কথা রাখল দুই কিশোরী। একসঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ল। যাঁদের সব সময় একসঙ্গে দেখা যেত তাঁদের একসঙ্গে মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার ও স্থানীয়রা। শনিবার বিকেলে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নাগরাকাটা। গাঠিয়া নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হল দুই বন্ধুর। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বয়স মাত্র ১৪। মৃত দুই কিশোরীর নাম সুশানি মুন্ডা ও পুজা মুন্ডা। দু’জনেই গ্রাসমোর চা-বাগানের বাসিন্দা। তারা চম্পাগুড়ি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সব সময় একসঙ্গে থাকত তারা। এলাকায় ভালো বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুই বন্ধু বাড়ির কাছেই গাঠিয়া নদীর রেল সেতু সংলগ্ন এলাকায় স্নান করতে নেমেছিল। বর্ষাকালে পাহাড়ি এই নদীতে জলের স্রোত অত্যন্ত বেশি থাকে। স্নান করার সময় আচমকাই জলের প্রবল স্রোত সামলাতে না পেরে দু’জনেই গভীর জলে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নদীতে তল্লাশি চালান। পরে দুই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে দু’জনেরই মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে নাগরাকাটা থানার পুলিশ ও রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ মৃতদেহ দু'টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দুই স্কুলছাত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রাসমোর চা-বাগান এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, স্নান করতে গিয়ে নদীর গভীর অংশে চলে যাওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রবিবার মৃতদেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি পাঠানো হয়েছে। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই বন্ধুর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
