দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। প্রিমিয়াম ট্রেন উদ্বোধন নিয়ে সতর্ক আরপিএফ। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে কোনও অশান্তি না হয় সেদিকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। আর সে কারণে ইতিমধ্যে কালিয়াচকের আইসিকে চিঠি আরপিএফের।
আরপিএফের দাবি, শনিবার মালদহ স্টেশন থেকে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, কেউ কেউ স্লিপার এক্সপ্রেসে পাথর ছুড়তে পারে। আরপিএফের আরও আশঙ্কা, মালদহ, জমিরঘাটা, খালতিপুর, ছামাগ্রাম, শঙ্কপাড়া, নিউ ফারাক্কা, বল্লালপুর, ধূলিয়ান, বাসুদেবপুর, তিলডাঙা এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখাতে পারেন। তাই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করার আর্জি জানানো হয়েছে। বলে রাখা ভালো, এর আগে গত ২০২৩ সালে ৯ দিনে চারবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে হামলা হয়। সে কারণেই এবার সতর্ক আরপিএফ।
রেলমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ছ’দিন হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলবে হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে। পরের দিন কামাখ্যা পৌঁছবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। অন্যদিকে কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের যাত্রার সময় অনেকটাই কম লাগবে বলেই দাবি রেলের।
অন্যদিকে, দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মোট ১৩ টি স্টেশনে দাঁড়াবে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। রেলের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরেই প্রথমে ট্রেনটি দাঁড়াবে ব্যান্ডেল স্টেশনে। এরপর নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা জংশম, মালদহ টাউন, আলুবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া হয়ে কামাখ্যা পৌঁছাবে। কামাখ্যা থেকে ছাড়ার পর একইভাবে এই স্টেশনগুলিতেই স্টপেজ দেবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তবে কামাখ্যা থেকে বুধবার এবং হাওড়া থেকে বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে না ট্রেনটি।
বলে রাখা প্রয়োজন, দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির মধ্যে একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। যা নিঃসন্দেহে রেল পরিষেবায় গতি বাড়িয়েছে। এবার দেশের ট্র্যাকেই ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বন্দে ভারতের স্লিপার ভার্সন। ১৬ কোচের ট্রেনটি সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। ১৬টি কোচের মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার, চারটি এসি ২ টায়ার এবং একটি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ থাকবে। একসঙ্গে ৮০০ এরও বেশি যাত্রী যাত্রা করতে পারবেন। অন্যদিকে ভাড়াও তুলনামূলক অনেক কম হবে বলে দাবি।
জানা গিয়েছে, খাবার খরচ-সহ থার্ড এসির ভাড়া ২,৩০০ টাকা, সেকেন্ড এসি-র জন্য ৩,০০০ টাকা এবং ফার্স্ট এসি-তে যাতায়াত করতে ৩,৬০০ টাকা। শুধু তাই নয়, কবচ, এমার্জেন্সি টক ব্যাক সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক সমস্ত পরিষেবাই এই ট্রেনে যাত্রীরা পাবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল।
