আমেরিকার ডাল শস্যে 'অন্যায্য ভাবে অতিরিক্ত' শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সেই শুল্কের হার কমাতে বলা হোক। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে আলোচনা চলছে, তাতে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা দরকার। এই মর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখলেন তাঁর দলেরই দুই সেনেটর।
ভারত ডাল শস্যে এখনও আত্মনির্ভর নয়। তবে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। তবে এখন মূলত আমেরিকা থেকেই ডাল শস্য আমদানি করে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি আমেরিকার ডাল শস্যে ৩০ শতাংশ শুল্কও চাপিয়েছে তারা। তা কার্যকর হয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে। আমেরিকার মন্টানা এবং উত্তর ডাকোটার রিপাবলিকান সেনেটর কেভিন ক্র্যামার এবং স্টিভ ডেইনস এই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তুলেছেন। ট্রাম্পকে পাঠানো চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, এতে আমেরিকার চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিরাট লোকসান হচ্ছে তাঁদের।
আমেরিকা থেকে মুশুর ডাল, ছোলা এবং শুকনো মটর জাতীয় ডাল শস্য আমদানি করে ভারত। এই শস্য মূলত মন্টানা এবং উত্তর ডাকোটায় উৎপাদন হয় জানিয়ে দুই রিপাবলিকান সেনেটর ট্রাম্পকে চিঠিতে লিখেছেন, ভারতের বাজারই তাঁদের এলাকার ব্যবসায়ীদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু ভারত 'অধিক' শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ায় ওই ব্যবসায়ীদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিকে শুল্কের হার কমাতে বলা হোক, যাতে দুই দেশই লাভবান হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। নয়াদিল্লির কম দামে রুশ তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তুলেই এই পদক্ষেপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বহর অনেকটাই কমেছে। বাণিজ্য নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছোতে এখনও আলোচনা চালাচ্ছে ভারত এবং আমেরিকা। কিন্তু এখনও সম্ভব হয়নি সেই বাণিজ্যচুক্তি। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে ডাল শস্যের উপর শুল্ক কমানোর 'চাপ' দেওয়া হলে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
