চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: ভোট চলাকালীন বারংবার হামলায় জেরবার রানিগঞ্জের বাঁশরা। ভোট প্রক্রিয়ার শুরুতে শান্ত থাকলেও বুথ দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রানিগঞ্জের বাঁশরা এলাকা। অভিযোগ, সিপিএম অধ্যুষিত বাঁশরায় লাঠি, বোমা নিয়ে ঢুকে পড়ে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। বুথ দখলের চেষ্টাও করা হয়। তবে গ্রামের বাসিন্দাদের স্বতঃপ্রণোদিত প্রতিরোধের সামনে জাঁকিয়ে বসতে পারেনি দুষ্কৃতীদল। পিছু হটে পালিয়ে যায়। আটটা নাগাদ এই ঘটনার পর স্বস্তির শ্বাস ফেলে এলাকাবাসী। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘায়িত হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের বোলেরো গাড়িতে চেপে অস্ত্রশস্ত্র ও নিয়ে হানা দেয় বহিরাগতরা। বুথ দখলের চেষ্টা চললে আসরে নামে গ্রামবাসী। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম, স্বভাবতই লাঠি, বল্লমের অভাব ছিল না। তাই দিয়েই শুরু হয় প্রতিরোধ। বুথে ঢুকতে না পেরে ফের ফিরে যায় বহিরাগতরা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁশরায় প্রবেশের তিন দিক থেকেই দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ে। রীতিমতো বোমা ও গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রাম দখলে নেয়। বোমা গুলির সামনে নিতান্তই অসহায় এলাকার মানুষ।
[বুথ দখলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কাঁকসা, ‘বহিরাগত’ তৃণমূল কর্মীদের বেধড়ক মার]
সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের দখলে বুথ। চলছে ছাপ্পা ভোটের পর্ব। গোটা ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে গ্রামবাসী। অভিযোগ, বুথ দখল করে ভোটারদের বের করে দেওয়া হলেও কোনওরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ। উলটে ছাপ্পা ভোটের বিরোধিতা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোটা ঘটনায় ক্ষোভে ফুটছে এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, আসানসোলের চারটি ব্লক জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, সালানপুর ও বারাবনি এলাকায় চলছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। বহিরাগত আক্রমণে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভে ফুটছে বাঁশরার বাসিন্দারা।
জামুড়িয়ার হিজলগোড়ার অধীনে শাকড়ি-কুমারডুবির বুথেও ঢুকে পড়ে বহিরাগতরা বোমা ছুড়তে ছুড়তে বুথ লুট করে। গ্রামের বাসিন্দারা প্রথমে রুখে দিলেও পরে গুলি বোমার সামনে পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশকে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। পুলিশের গাড়ি আটকে শুরু হয় বিক্ষোভ।
[বুথের মধ্যেই আক্রান্ত বিজেপির মহিলা প্রার্থী, শাড়ি ছেঁড়ার অভিযোগ]
The post রানিগঞ্জের বাঁশরায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বহিরাগতদের বুথ দখলের চেষ্টা রুখল বাসিন্দারা appeared first on Sangbad Pratidin.
