ভোটের বাকি আর বেশিদিন নেই। আর ভোট আসতেই ফের বাংলায় আসা-যাওয়া শুরু দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের। ভোট প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ভোট যে বড় বালাই! আর তাই আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সিউড়িতে সভা রয়েছে তাঁর। ভোটের সময় বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখা মিললেও বছরের পর বছর সমাবর্তনে দেখা নেই। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে কবিগুরুর আশ্রমে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপেক্ষিত বিশ্বভারতীর সমাবর্তন! বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি সময় দিতে না পারছেন না, কিন্তু নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে পারছেন, যা হতাশাজনক। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি সময় দিতে না পারছেন না, কিন্তু নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে পারছেন, যা হতাশাজনক।
উল্লেখ্য,বিশ্বভারতীতেও প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। শেষবার ২০২৩ সালে বিশ্বভারতীতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানও স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১২ মাস আগে নতুন স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রবীরকুমার ঘোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সমাবর্তন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনও ফল পাওয়া যায়নি। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের পরেও সমাবর্তনের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি জারি হয়েছে। ফলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান কবে হবে তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা বহু শিক্ষার্থীর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
যদিও এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, "রাজনৈতিক সভা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমাদের সমাবর্তনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। প্রধানমন্ত্রী দিনক্ষণ স্থির করলেই আয়োজন করা হবে। তবে এনিয়ে অসন্তোষের কোনও কারণ নেই।" বিশেষ করে ২০১৮ সালের সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর সমাবর্তন না হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীরা। তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বভারতী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌমিক আচার্য বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। কয়েক মাস আগে থেকেই তাঁর আসার কথা শোনা গেলেও তিনি আসেননি। পড়ুয়াদের শংসাপত্র ডিগ্রি ভবিষ্যতের থেকেও নির্বাচনী প্রচারই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।" এসএফআই-এর জেলা সভাপতি সৌভিক দাস বক্সি বলেন, "বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী সমাবর্তনের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এই আচার্য বোঝেন না। যদি বুঝতেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতেন। প্রতিবছর নিয়ম করে সমাবর্তনে কেন একটা দিনের জন্য উপস্থিত থাকতে পারেন না তিনি? সমাবর্তন না হলে পড়ুয়াদের শংসাপত্র নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এটা সর্বপ্রথম মান্যতা দেওয়া উচিত।"
অন্যদিকে, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন গবেষক ছাত্র ব্রজ সৌরভ চট্টোপাধ্যায় ও রিয়া পাল বলেন, “রাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকে। কিন্তু বিশ্বভারতীতে নিয়মিত সমাবর্তন হয় না কেন তা প্রশ্নের বিষয়।" শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক অপর্না দাস মহাপাত্র ও সুব্রত সেন মজুমদার বলেন, ''সমাবর্তন হচ্ছে স্নাতক এবং স্নাতকোস্তরের উত্তীর্ণ হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একটি বিশেষ দিন। পূর্বেই রীতি মেনে আচার্য সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের হাত থেকে শংসাপত্র ছাতিম পাতা নেওয়ার চল রয়েছে। এখন শেষসব আর নেই। এখন বছর বছর হয় না। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়া ও গবেষকদের।" তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কবে ফের সেই ঐতিহ্য ফিরে আসবে, সেই উত্তর খুঁজছে বিশ্বভারতীর পড়ুয়া এবং প্রাক্তনী গবেষকরা।
