ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে হুগলিতে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধি। বিজেপিতে মোহভঙ্গ হওয়ায় এবার ঘাসফুল শিবিরে ফিরতে চলেছেন সপ্তগ্রামের বিজেপি নেতা তথা প্রার্থী দেবব্রত বিশ্বাস। এনিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে সেসব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সপ্তগ্রাম থেকে শ্রীরামপুরে পৌঁছে যান তিনি। একা নন, সদলবলে শুক্রবারই ঘাসফুলের পতাকা হাতে রাজ্যের শাসকদলে যোগদান করেছেন দেবব্রত।
সূত্রের খবর, দেবব্রত বিশ্বাসের তৃণমূলে যোগদান ঘিরে এলাকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে এলাকার মহিলাদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ। তাঁদের বক্তব্য, “দেবব্রত যেদিকে যাবেন, আমরাও সেদিকেই যাব। আমরা কোনও রাজনৈতিক দল বুঝি না, আমরা দেবব্রত বিশ্বাসকেই নেতা বলে চিনি।” দেবব্রতবাবুকেও দেখা গেল, সাদা জামা পরে অনুগামীদের গিয়ে ছোট গাড়ি নিয়ে শ্রীরামপুরে গিয়েছেন। সেখানেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি।
দেবব্রত বিশ্বাস একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সপ্তগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দেবব্রত বিশ্বাস একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সপ্তগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সেই নির্বাচনে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তপন দাশগুপ্তের কাছে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়। সূত্রের আরও খবর, কিছুদিন ধরেই দেবব্রত বিশ্বাস তাঁর পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন। অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হল।
অরিন্দম গুঁইন, চেয়ারপারসন অসীমা পাত্র, সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্তদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। নিজস্ব ছবি
দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ ফের নিজের পুরনো দলে ফিরলেন দেবব্রত বিশ্বাস। হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরিন্দম গুঁইন, চেয়ারপারসন অসীমা পাত্র, সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত-সহ তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে একাধিক বিজেপি কার্যকর্তা এবং কয়েক হাজার কর্মীও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। পতাকা হাতে নিয়ে দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, “বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোনও দিনই আমাকে আপন করে নেওয়া হয়নি। দলের সমস্ত কর্মসূচি থেকে আমাকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলার কিছু নেতা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য জেলায় বসে রয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় গরিব মানুষদের কথা ভেবেই রাজনীতি করেছি, আগামী দিনেও সেই কাজই করে যাব।যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার সার্বিক উন্নয়ন এবং গরিব মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন, সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছি। সরকারের প্রকল্পগুলি গরিব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
ছাব্বিশের আগে দেবব্রতর এভাবে তৃণমূলে ফিরে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দলের শক্তিবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে। এলাকায় যুব সংগঠন তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। সক্রিয়তার ক্ষেত্রেও দেবব্রত মণ্ডল নজর কেড়েছেন। ফলে ছাব্বিশের ভোটে এলাকায় তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
