লোকালয়ে পাথর খাদান হবে না। তাহলে দূষণ ছড়াবে। এছাড়া ওই এলাকা জনজাতিদের দেবস্থান। তাই পাথর খাদানে আপত্তি। এমনই সব অভিযোগ তুলে শুক্রবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি পুরুলিয়ার বরাবাজারের সরবেরিয়া গ্রাম। পাথর খাদান চালুর বিরোধিতায় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামা মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল পুলিশকেও। তাঁদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি চলে বলেও অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় গাড়িও। ক্ষতির মুখে পড়েন খাদান মালিকরাও। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামলেছে।
জাতীয় পতাকা হাতে মহিলাদের বিক্ষোভ। ছবি: অমিত সিং দেও।
বরাবাজার ব্লকের লটপদা পঞ্চায়েতের সরবেরিয়া গ্রাম। এখানেই এক রায়তি জমিতেই পাথর খাদান চালুর কথা ছিল শুক্রবার। বছর চার আগে রাজ্য সরকার আয়বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব রায়তি জমিতে পাথর খাদান চালুর অনুমতি দিয়েছে। সেইমতো সরবেরিয়ার বাসিন্দা সোমনাথ বড়াল নিজের রায়তি জমিতে খাদান চালুর জন্য লিজ দিয়েছিলেন। তবে ৬,৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তা চালু হয়নি। পরে কলকাতা হাই কোর্ট তা চালু করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়। সেইমতো শুক্রবার সেই খাদানটি চালু করতে গিয়েছিল বরাবাজার থানার পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরবেরিয়া গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থা পাথর খাদান তৈরির কাজ শুরু করেছে। এরপর এই খাদান চালু হলে ভবিষ্যতে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ছড়াবে বলে আশঙ্কা গ্রামবাসীদের। পাশাপাশি খাদান খননের সময় বিস্ফোরণের ফলে কম্পনে গ্রামের বাড়িঘরে ফাটল ধরতে পারে বলেও তাঁদের দাবি। এছাড়াও স্থানীয় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক, চলাচলের রাস্তা ও গ্রামের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, কোনওভাবেই লোকালয়ের মধ্যে এই পাথর খাদান তৈরি করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে জানান গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
গোটা ঘটনা নিয়ে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, ''একটা পাথর খাদান চালু করতে গিয়েছিল পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই কাজ করতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রামের মহিলারা বাধা দেয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। খাদান মালিকদেরও ক্ষতি হয়েছে কিছু। আমরা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে দুটো এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটা পুলিশের তরফে, আরেকটা খাদান মালিকদের তরফে। সেইমতো আমরা অ্যাকশন নেব।''
