ভোট ঘোষণা হতেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকে। রবিবার রাতেই চিঠি পাঠিয়ে বাংলার মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় মুখ্যসচিব হচ্ছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালা। পাশাপাশি, সোমবার রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার নগরপাল পদেও বদল করা হতে পারে।
রবিবার বিকেল ৪টেয় বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিঠি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর স্থলাভিষিক্ত হলেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। অন্যদিকে, জগদীশ প্রসাদ মিনার জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হলেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ। তাঁকে হোম ও হিল অ্যাফেয়ার্সের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নিযুক্ত করেছে কমিশন। তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের সচিব ছিলেন। কমিশন জানিয়েছে, সোমবার দুপুর তিনটের মধ্যে নতুন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে।
ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। বাংলায় ভোটের আগে মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন, এমন ঘটনা মনে করতে পারছে না ওয়াকিবহাল মহল।
কেবল প্রশাসনিক স্তরেই নয়, পুলিশের শীর্ষকর্তাদেরও বদল করতে চলেছে কমিশন। সোমবার রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার নগরপাল পদেও বদল করা হতে পারে। সূত্রের খবর, ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পান্ডের জায়গায় নতুন ডিজি হতে পারেন অজয় নন্দা। যিনি নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালদহ জেলার বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত। নতুন পুলিশ কমিশনার কে হতে চলেছেন তা এখনও জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনে এত দ্রুত এবং এত বড়সড় রদবদল একেবারে নজিরবিহীন।
বাংলায় ভোটের আগে মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন, এমন ঘটনা মনে করতে পারছে না ওয়াকিবহাল মহল। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার মুখ্যসচিবকেই সরিয়ে দেওয়া হল বিধানসভা নির্বাচনের আগে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। এবার সেটা কমিয়ে দুই দফায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
