ভাইজানের 'দাবাং' মেজাজের সঙ্গে বলিউডের কমবেশি সকলেই পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্টে সোশাল পাড়ায় কার্যত কাঁপন ধরান সলমন খান। ষাটের সুপারস্টারের পোস্ট সিরিজের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছিল ক্ষোভ, অভিমান। কখনও 'জেলে ঢোকানো'র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তো কখনও বা জীবনে 'প্রায়োরিটি'র পাঠ দিয়ে তাঁর 'যন্ত্রণা বেচে টাকা কামানো'র জন্য তুলোধনা করেছেন! সলমনের এহেন বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কম শোরগোল হয়নি মায়ানগরীর সেলেবপাড়ায়। তবে ধমক-চমকের পর এবার শান্ত, সৌম্য অবতারে ক্যামেরার সামনে ধরা দিলেন সলমন।
"যাদের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি, যোগাযোগ রেখেছি, যাদের রুজি-রোজগারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বরাবর যত্নবান থেকেছি, কিন্তু আজ যদি তারা আমার যন্ত্রণা বেচে টাকা কামাতে চায়, আমি মোটেই মেনে নেব না...।"
সলমন খান।
ঠিক কী ঘটেছে? আসলে গত মঙ্গলবার রাতে হিন্দুজা হাসপাতালে এক পরিচিতকে দেখতে গিয়েছিলেন সলমন। কিন্তু সেখান থেকে বেরনোর সময়েই ঘটে বড়সড় বিভ্রাট! ভাইজানকে দেখে চিরাচরিতভাবে হুড়মুড়িয়ে ছুটে আসেন ছবিশিকারীরা। আর তাতেই মেজাজ হারান অভিনেতা। সেখানে দাঁড়িয়ে একপ্রস্থ ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার পর বাড়িতে ফিরেও শান্ত থাকতে পারেননি! বিচলিত মনে একগুচ্ছ বিস্ফোরক পোস্ট করে ফেলেন। সলমন লেখেন, "যদি আমি কোনও হাসপাতালে সংবাদমাধ্যমের কাউকে আমার কষ্ট দেখে আনন্দ পেতে দেখি, সেই সংবাদমাধ্যম, যাদের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি, যোগাযোগ রেখেছি, যাদের রুজি-রোজগারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বরাবর যত্নবান থেকেছি, কিন্তু আজ যদি তারা আমার যন্ত্রণা বেচে টাকা কামাতে চায়, আমি মোটেই মেনে নেব না।" এখানেই থামেননি ভাইজান।
সলমন খানের এহেন মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসেন সেলেবপাড়ার পাপারাজ্জিরা। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার রাতে ভাইজানকে ঘিরে ধরে করজোড়ে ক্ষমা চান ছবিশিকারীরা।
তাঁর সংযোজন, "আমি একশোজনকে জ্বালিয়ে দিতে পারি। ভাইয়ের দুঃখ নিয়ে ফের ট্রাই করতে এসো! তোমাদের কোনও প্রিয়জন হাসপাতালে থাকলে আমি কি এমন করতাম? ষাট বছর বয়স হল, আমি কিন্তু লড়তে ভুলিনি। মনে রেখো, জেলে ভরবে নাকি?" সলমন খানের এহেন মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসেন সেলেবপাড়ার পাপারাজ্জিরা। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার রাতে ভাইজানকে ঘিরে ধরে করজোড়ে ক্ষমা চান ছবিশিকারীরা। এদিন রাতে রীতেশ দেশমুখের 'রাজা শিবাজি'র সাফল্য উদযাপনের পার্টিতে গিয়েছিলেন সলমন। সেখানেই তাঁকে দেখতে পেয়ে প্রায় ছেঁকে ধরেন ছবিশিকারীরা। সকলকে একযোগে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় সলমনের কাছে। এরপরই হাসিমুখে ভাইজান তাঁদের বলেন, "এবার জোরে সরি বল...।" আসলে সলমন বরাবরই এরকম। রাগ পুষে রাখতে জানেন না। ছবিশিকারীদের গোলযোগের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না। সেদিন কেন মেজাজ হারান? সেকথাও খুলে বলেন তাঁদের। আর সলমনের এহেন 'দিলদরিয়া' আচরণের ভিডিওই ফের নেটভুবনে ভাইরাল।
