মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গোলমাল নিয়ে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির সভা থেকে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ''হঠাৎ করে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সব নাম উড়ে গেল। আমিও আমার নাম টাইপ করে দেখছি আমিও সন্দেহের তালিকায়। এখন বলছে, হ্যাকিং হয়েছে।'' কিন্তু এই ঘটনা শুধুই হ্যাকিং নাকি এর পিছনে 'টেকনিক্যালি বজ্জাতি' রয়েছে তা মানুষকে জানানোর দাবি তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শুধু তাই নয়, এসআইআর ইস্যুতেও ফের একবার উত্তরবঙ্গের সভা থেকে সুর চড়ান তিনি। পাশাপাশি, যাঁদের নাম বাদ পড়বে তাঁদের বিনামূল্যে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করার কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার গভীর রাতে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। অথচ, সেই তালিকা প্রকাশের পরেও এখনও বহু জায়গার তথ্য মিলছে না। কোথাও তথ্য দেখা গেলেও ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। এমন নানাবিধ সমস্যার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে আচমকা সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গলের ওয়েবসাইটে বিভ্রাট সামনে আসে। দেখা যায়, ওয়েবসাইটে রাজ্যের সমস্ত ভোটার বিচারাধীন। নিজের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলে বৈধ ভোটারদেরও দেখানো হচ্ছে ‘বিচারাধীন।’ যা নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই সরব হয় শাসকদল তৃণমূল। যদিও বিষয়তি যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই দাবি কমিশনের।
এবার এই ইস্যুতে ভোট প্রচারে গিয়ে এবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে বিঁধে তিনি বলেন, ''এখন বলছে হ্যাকিং হয়েছে। তোমাকে হ্যাকিং করার সাহস কারোর আছে। তুমি হ্যাকিং করেছ, নাকি টেকনিক্যালি বজ্জাতি করেছ এখন মানুষকে জানাও। আর কত কাটবে। অনেক কেটেছ।'' মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ''আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট লড়াই করেছি। লড়ে যাব। ছাড়ব না। এখনও অতিরিক্ত তালিকা টাঙায়নি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা ক্যাম্প করব। বিএলএ-রা করবে। বিনা পয়সায় আইনজীবী দেব। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব।'' দলনেত্রীর আশঙ্কা, শোনা যাচ্ছে আট লক্ষের নাম বাদ গেছে। কিন্তু কেন এখনও তালিকা টাঙানো হল না তা নিয়েও সুর চড়ান। শুধু তাই নয়, তালিকা যে বুথে বুথে ঝোলাতে হবে তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
