চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই লড়েছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে বছর দুয়েক পর সেই 'বিরোধী' অভিষেকই হলেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমতলার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদা বাম যুবনেতার দলবদলে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
আমতলার দলীয় কার্যালয়ের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতীক উর রহমান। নিজস্ব চিত্র
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমতলার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদা বাম যুবনেতার দলবদলে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
আমতলায় তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকছেন প্রতীক উর রহমান। নিজস্ব চিত্র
সপ্তাহখানেক ধরে প্রতীক উর রহমান আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর একটি চিঠি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ওই চিঠিতে প্রতীক উর রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকী দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রতীক উর রহমানকে বহিষ্কারের চিঠি দিল সিপিএম
তবে তার আগে দলের একাংশ প্রতীক উরকে রাখার জন্য সক্রিয় হয়। যোগাযোগ করেন বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু। দু'দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, প্রতীক উরের দলত্যাগের খবর যেন সন্তান হারানোর যন্ত্রণাসম। তিনি নিজেও নাকি 'বিদ্রোহী' প্রতীককে ফের আলিমুদ্দিনমুখী করার চেষ্টা করেছিলেন। অবশ্য তাতে লাভ হয়নি। পরিবর্তে দলের পক্ককেশ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রতীক উর রহমান। ফাইল ছবি
সেই সময় থেকেই শোনা যাচ্ছিল তৃণমূলের এক সাংসদের সঙ্গে নাকি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্রতীক। তাঁর সঙ্গে নানা 'আড্ডাক্ষেত্রে'ও দেখা যাচ্ছে। সমস্ত জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে শনিবাসরীয় বিকেলে যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ প্রতীক উরের। এদিন বেলা ১২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ আমতলার দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন অভিষেক। স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেন। বিকেলে প্রতীক উরের যোগদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক।
আমতলার তৃণমূল কার্যালয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র
শোনা যাচ্ছে, আরও দুই বাম যুবনেতা সৃজন ভট্টাচার্য এবং দীপ্সিতা ধরও নাকি জল মাপছেন। প্রতীক উরের দেখানো পথে হেঁটে তাঁরাও কি ভোটের মুখে দলবদলের সিদ্ধান্ত নেবেন, সে প্রশ্ন আপাতত রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে। মুখে কিছু না বললেও আলিমুদ্দিনের বর্ষীয়ান নেতাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে।
