রাজ্যের বাইরের কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে এবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই নিয়ম চালু করল নবান্ন। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি ও দ্য কলকাতা গেজেট-এ প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। বাম আমল থেকেই মন্ত্রীদের মেডিক্যাল বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানাতেও এই বিতর্ক থামেনি। তাই এবার মন্ত্রীদের মেডিক্যাল বিলে রাশ টানতে এই পদক্ষেপ করল নবান্ন। বিধানসভা নির্বাচনে আর বেশিদিন বাকি নেই। ৪ মে ভোটগণনার পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হবে। নির্বাচনের আবহে এই নির্দেশিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর আগে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করতে যাওয়ার জন্য মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনও অনুমতি নিতে হত না। কিন্তু দেখা যায়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের চিকিৎসার খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং সেই বিল মেটাতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। নবান্নের এই পদক্ষেপের কারণে মন্ত্রীদের চিকিৎসায় ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যাবে। যে চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা রাজ্যের হাসপাতালে করানো সম্ভব তার জন্য রাজ্যের বাইরের হাসপাতালে গিয়ে বেশি খরচ আটকানোও সম্ভব হবে। এরফলে সরকারের খরচ বাঁচবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপ-মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দেবে সরকার। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা পাবেন।
উল্লেখ্য, বাম জমানায় তৎকালীন মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায় একটি দামি চশমা কিনে সরকারের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছিলেন। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। এছাড়াও তৃণমূল জমানার মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের মেডিক্যাল বিল নিয়েও আলোচনা হয়। এই বিষয়ে পরবর্তীকালে সমালোচনা আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা স্বরাষ্ট্র দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপ-মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দেবে সরকার। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা পাবেন। এছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকারই বহন করবে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে হলে আগে থেকে অনুমোদন নিতে হবে। তবেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
