ধীমান রায়, কাটোয়া: মনোনয়ন জমা দিলেও ভোটের লড়াইয়ে আর থাকতে চাইছেন না ভাতারের নিচুতলার সিপিএম কর্মীরা। তাদের অভিযোগ এমনিতেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য অনেক প্রার্থীকেই হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছে। ভোটের দিনেও ভোট লুট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধী সিপিএম কর্মীরা। সূত্রের খবর তারা জেলা নেতৃত্বের কাছে আবেদন রেখেছেন যাতে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্ত আসনেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব এনিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। তারা সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্য নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
[এ যেন উলটপূরাণ, ‘অফিসিয়াল’ প্রার্থীকেই মনোনয়ন তুলতে হুমকি গোঁজের!]
পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ব্লকে পঞ্চায়েত ভোটে ৫০ শতাংশের বেশি আসনেই প্রার্থী দিতে পেরেছে সিপিএম। আশপাশের ব্লক এলাকায় যেমন মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, মন্তেশ্বর ও বর্ধমান উত্তর বিরোধীশূন্য বলা যায়। তবে প্রার্থী দিতে পারলেও ভাতারে আর ভোটের ময়দানে থাকতেই চাইছেন না দলের নিচুতলার কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা জেলা নেতৃত্বের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে সমস্ত আসন থেকে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভাতার ব্লকে রয়েছে ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ২০১টি। তার মধ্যে ১০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রথম দিনেই আদালতের নির্দেশে নির্বাচনী কাজে স্থগিতাদেশ জারি হয়ে গিয়েছে। যদিও নির্বাচনের প্রক্রিয়া আপাতত ঝুলে রয়েছে। তবে ভাতার এলাকায় ৫০ শতাংশ আসনে দলীয় প্রার্থী থাকলেও ভোটের ময়দানে থাকতে চাইছেন না নিচুতলার অধিকাংশ কর্মী। ভাতারের অঞ্চল পর্যায়ের এক সিপিএম নেতা বলেন, প্রথমত আমাদের প্রার্থীদের কোনও নিরাপত্তা নেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছে। তার উপর ভোটের দিনে অধিকাংশ বুথে এজেন্টই দিতে পারব কিনা তানিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিপিএমের এক যুব নেতা বলেন, ভাতারে আমাদের প্রার্থী থাকলেও আশপাশের ব্লক যেমন মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, মন্তেশ্বর ও বর্ধমান সব ব্লকেই প্রায় সমস্ত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতে রয়েছে শাসকদল। ফলে ওইসব এলাকায় ভোট হচ্ছে না। তখন শাসকদলের বাইরের কর্মীরা ভাতারে এসে ভোট করাবেন। আমরা টিকতেই পারব না। এজন্যই কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা ভোট থেকে সরে আসার পক্ষে উচ্চ নেতৃত্বের কাছে প্রস্তাব রেখেছি।
[ঝড়ের দাপটে মন্দিরের চূড়া ভেঙে মৃত ২, আহত ২০]
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে নিচুস্তর থেকে আবেদন গেলেও এবিষয়ে সিপিএমের জেলা নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়ে চাইছেন না। তারা রাজ্য নেতৃত্বের দিকেই বিষয়টি ছেড়ে দিতে চাইছেন। কারন ২০১৩ সালে বর্ধমান পুরভোটের নির্বাচনের দিন শাসকদলের সন্ত্রাসের অভিযোগে সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব ভোটে থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এনিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই এবারে পঞ্চায়েত ভোটে স্পিকটি নট জেলা নেতারা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর বিক্ষিপ্তভাবে ভাতারের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৬ সালে সিপিএমের দলীয় পর্যলোচনা বিষয়ক পত্রিকায় দাবি করা হয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকে ৫-৬ দিনের মধ্যে শুধু ভাতারেই ৪৮৬ জনকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। দলীয় কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। জরিমানাও করা হয়েছিল বহুজনকে। এমনই অভিযোগ সিপিএমের। ওই সমস্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে মনোনয়ন জমা করেও ভাতারে ভোটে লড়তে চাইছেন না সিপিএমের নিচুতলার অধিকাংশ কর্মী। তবে সিপিএমের ভাতার এরিয়া কমিটির সদস্য নজরুল হক বলেন, ‘আমরা লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরতে রাজি নই। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। দলের এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুভাষ মণ্ডল জানিয়েছেন, ভোটের লড়াইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
[পণের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা]
The post পূর্ব অভিজ্ঞতা সুখের নয়, ভাতারে ভোটে লড়তে চান না সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
