প্রথমপক্ষের স্বামী বাংলাদেশি। সেকথা জেনেই স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল। এদিকে তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে। ছেলেকে নিয়ে স্বামী বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলেন। এদিকে ওই তরুণীও দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। তবে সন্তানকে খুঁজতে পাসপোর্ট-সহ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট ও বাংলাদেশ যাওয়ার বৈধ কাগজপত্র। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলেও কাটাতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত আড়াই বছর পর জেলমুক্তির পর সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এলেন ওই তরুণী। স্ত্রীকে দেখে অঝোরে কেঁদে ফেললেন স্বামী। আবার দু'জনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। চারহাত এক হল তাঁদের। খুশির অশ্রুতে চিকচিক করে উঠল দু'জনের চোখের কোণ।
কোনও বলিউড সিনেমা নয়। নয় কোনও গল্প। এমন ঘটনাই ঘটেছে মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনে। বাংলাদেশের জেলে বন্দি স্ত্রীকে ভারতে ফেরাতেই প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছিলেন স্বামী। স্ত্রীকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে কাতর আবেদন জানাচ্ছিলেন৷ অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দীর্ঘ কয়েক মাস বাদে ভারতে ফিরলেন স্ত্রী ফাল্গুনী রায়চৌধুরী৷ গেদে সীমান্ত দিয়ে স্বামী প্রসেনজিৎ চৌধুরীর হাত ধরে তিনি বনগাঁর বোহালদহের বাড়িতে ফিরলেন৷
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বোয়ালদহ এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী রায় একজন ভারতীয় নাগরিক। বছরখানেক আগে বৈধ নথিপত্র নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। প্রসেনজিত জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনীর আগে বনগাঁ ট্যাংরা কলোনির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বোয়ালদহ এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী রায় একজন ভারতীয় নাগরিক। বছরখানেক আগে বৈধ নথিপত্র নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। প্রসেনজিত জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনীর আগে বনগাঁ ট্যাংরা কলোনির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও জন্মায়। পরে ফাল্গুনী জানতে পারেন, সেই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক! সেই থেকেই দাম্পত্য জীবনে বিবাদের সূচনা। অভিযোগ, কিছুদিন পরে ওই ব্যক্তি চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়ে যান, নিয়ে যান ছেলেকেও৷ ছেলেকে নিয়ে যাওয়া আটকাতে পারেননি ওই তরুণী।
এরপরই ফাল্গুনীর সঙ্গে পরিচয় হয় বোয়ালদহ গ্রামের প্রসেনজিতের। দু’জনেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে ছেলের খোঁজ নিতে ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে যান ফাল্গুনী। স্বামীকে খুঁজেও পেয়েছিলেন। অভিযোগ, প্রথমপক্ষের স্বামী তাঁর পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে প্রাণে মারার হুমকি দেন। বিপদের মুখে তিনি প্রসেনজিতকে খবর দেন এবং প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ বিডিআর-এর কাছে ছুটে যান। কিন্তু বৈধ পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার কথা জানতে পেরে প্রসেনজিৎও বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে ঝিনাইদহে পৌঁছে বাংলাদেশের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে জানতে পারেন, ফাল্গুনী জেলবন্দি। আদালতে তিনি ফাল্গুনীর বৈধ প্রবেশের নথিপত্র দেখালে আদালত সাজা মুকুব করে দেন।
অভিযোগ, প্রথমপক্ষের স্বামী তাঁর পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে প্রাণে মারার হুমকি দেন। বিপদের মুখে তিনি প্রসেনজিতকে খবর দেন এবং প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ বিডিআর-এর কাছে ছুটে যান।
সেই থেকেই শুরু হয়েছিল লড়াই। হাল ছাড়েনননি প্রসেনজিৎ। ভারতে ফিরে বিদেশমন্ত্রক, জেলাশাসক ও এসপি অফিসে একাধিকবার আবেদন করেন ফাল্গুনীকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আক্ষেপ, স্ত্রী একজন ভারতীয় নাগরিক। ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করে স্ত্রীকে ফিরে না পেয়ে হতাশগ্রস্ত হয়ে প্রশাসনের উপরে ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত তাঁর আবেদনে দুই দেশের সরকার ও বাংলাদেশের আদালত সাড়া দেন। জেলমুক্তি হয় স্ত্রীর।
সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ফিরলেন ফাল্গুনী। স্ত্রীকে কাছে পেয়ে আত্মহারা প্রসেনজিৎও। স্ত্রী ফিরে আসায় প্রতিবেশী-পরিজনরা দু'জনের সোমবার সন্ধ্যায় ধুমধাম করে আবার বিয়ে দিলেন। মিষ্টিমুখ করানো হল এলাকার বাসিন্দাদের।
