মেয়ে বিশেষভাবে সক্ষম ছিল। বাঁচাতে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতেন মা। কিন্তু মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের মহিলা। ঘুরতেন রাস্তায় রাস্তায়। নিখোঁজ হয়ে যান বছর কুড়ি আগে। খোঁজও মেলে। তবে গণ্ডি ছাড়িয়ে 'অভাগী মা' তখন পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গাসাগরে। মেয়ে হারানো শোকে আর ফিরতে চাননি ওপার বাংলায়। চেয়েছিলেন মৃত্যু হোক তীর্থভূমি গঙ্গাসাগরেই। শনিবার গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন এক মন্দিরের সামনে মৃত্যু হল তাঁর।
অর্চনা গোলদার। বাংলাদেশের খুলনা জেলার সোনাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। প্যারামেডিক্যাল কর্মী ছিলেন তিনি। বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে মল্লিকাকে বাঁচাতে কোনও খামতি রাখেননি। ভগবানের কাছে প্রার্থনাকেও পথ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতেন। কিন্তু বাঁচেনি তাঁর মেয়ে। এরপরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ২০ বছর আগে একদিন নিখোঁজ হয়ে যান। বছর চারেক আগে গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির মন্দিরের ২ নম্বর রাস্তায় খোঁজ মেলে। একটি কালীমন্দিরে মহিলার হাতের লেখা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সাহায্যে অর্চনার পরিবারের খোঁজ মেলে।
মহিলার স্বামী লঙ্কেশ্বর গোলদার ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসককে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চিঠি লেখেন। অর্চনাদেবীর পোস্টমাস্টার ভাইও দিদিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। তাঁকে ঘরে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাড়িতে ফেরানো যায়নি অর্চনাদেবীকে। এদিকে বাড়িতে যেতে চাননি অর্চনাও। চেয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যু হোক পূণ্যভূমি গঙ্গাসাগরেই।
ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস জানান, "আমাদের সদস্য দিবস মণ্ডল মহিলার সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিচয় জানতে পারেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিডিও কলে মহিলার স্বামী, পুত্র ও ভাইয়ের সঙ্গে কথাও বলানো হয়। কিন্তু পূণ্যতীর্থ গঙ্গাসাগর ছেড়ে আর যেতে চাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শনিবার ভোরে ইচ্ছাপূরণ হল অর্চনাদেবীর। গঙ্গাসাগরের মাটিতেই দেহত্যাগ করলেন তিনি।" জানা গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা দেহটি সৎকার করেন। মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে তাঁর পরিবারকেও।
