টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: ওন্দা ব্লক তৃণমূলের নয়া কমিটি ঘোষণা হতেই নয়া অবতারে হাজির হলেন ওন্দার রামসাগর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা গোস্বামী। গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা ওন্দা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সহসভাপতির বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে বৃদ্ধার ছদ্মবেশ ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রামসাগরের এই গৃহবধূ। বুধবার ফের হাতে পোস্টার নিয়ে বিচারের দাবি নিয়ে প্রতীকী অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন প্রিয়াঙ্কা।
এদিনের এই অবস্থান বিক্ষোভে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে একাধিক প্রতারিত যুবক-যুবতী উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীদের অধিকাংশই বাঁকুড়ার ওন্দা এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদেরকে প্রতারিত করা হয়েছে। তবে প্রিয়াঙ্কা সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ওন্দা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সহ সভাপতি আশিস দে’র বিরুদ্ধে। ওন্দা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের নয়া কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে আশিসকে। আশিসবাবু শাসকদলের ওই ব্লক কমিটিতে স্থান পাওয়াতেই ফের সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কাদেবীর সাফ বক্তব্য, আশিসদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
[আরও পড়ুন: রায়সাহেবের মতিভ্রম, আমাদের নয়! মুকুলের সঙ্গে তৃণমূল ছাড়তে নারাজ অনুগামীরা]
তিনি আরও বলেন, আশিসবাবুই করোনার সময় তাঁকে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা চাইতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর চাইনিজ রেস্তরাঁও ভাঙচুর করা হয়। এসব অভিযোগ নিয়েই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই অভিযোগ পেয়ে তাঁকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন অভিষেক। তবে ওই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা আশিসের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিবর্তে তাঁকে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের নয়া কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের পদে বসানো হয়েছে। তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে গিয়েছেন অসহায় ওই মহিলা। যদিও আশিস দে বলছেন, প্রিয়াঙ্কাদেবী তাঁকে কোনও টাকা দেননি। তা সত্ত্বেও তাঁকে অভিযুক্ত করছেন। তিনি বাঁকুড়া আদালতে মামলাও করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। সেই কারণেই তিনি বিস্তারিত কিছু বলবেন না। তবে শাসক দলের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে রামসাগরের মহিলার কর্মকাণ্ডে অস্বস্তিতে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রিয়াঙ্কা সরাসরি নালিশ জানিয়েছেন দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। তারপরেও কেন তিনি এহেন কাজ করছেন বুঝতে পারছি না। তবে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমর শাখা বলছেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত দলের থেকে এর থেকে বেশি আশা করাই যায় না। প্রিয়াঙ্কাদেবী ভুল জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছেন। এবং তিনি ভুল দলে আছেন।”
