Advertisement
জনাদেশ তারকা মুখ দেখে না, রচনার 'ফুটপাথ' মন্তব্যকে সপাট চড় রেখা-কলিতা-চন্দনাদের
কেউ পরিচারিকার কাজ করতেন, কেউ রাজমিস্ত্রি, আজ এরা সকলেই জনপ্রতিনিধি।
কয়েকদিন ধরে চর্চায় অভিনেতা-সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ফুটপাথ' মন্তব্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে এক শ্রেণির মানুষকে অপমান করে বসেছেন সাংসদ। তাঁর কথার অর্থ দাঁড়িয়েছে, ভোটে জেতার জন্য সেলিব্রিটি তকমাটা অত্যন্ত জরুরি। সেই অঙ্কেই নাকি তৃণমূলনেত্রী তাঁকে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সেলিব্রিটি জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে রচনার মন্তব্য শুধুই হীন মানসিকতার পরিচয়, তা আগেই প্রমাণ করেছেন কলিতা, চন্দনা, রেখারা।
আউশগ্রামের বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাজি। স্বামী পেশায় কলমিস্ত্রি। সংসারের হাল ধরতে লোকের বাড়ি বাসন মাজতেন কলিতা। তার পাশাপাশি রাজনীতিও করতেন। ২০২১ সালেই তাঁকে টিকিট দেয় বিজেপি। যদিও সেবার জয় আসেনি। তবে বিধায়ক পদে টিকিট পাওয়ায় জীবন কিন্তু বদলায়নি। পরিচারিকার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। ছাব্বিশে ফের কলিতার উপরই আস্থা রেখেছে পদ্মশিবির। এবার ধরা দিয়েছে জয়।
ছাব্বিশে আউশগ্রামের মানুষ আশীর্বাদে ভরিয়ে দিয়েছেন পাড়ার বউ কলিতাকে। এখন তিনি শুধু বিধায়ক নন, রাজ্যের আবাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীও। স্বাভাবিকভাবেই কাজের চাপ এখন অনেকটা বেড়েছে। এখন জীবনযাপনের জন্য পরিচারিকার কাজের প্রয়োজন বা সময় কোনওটাই নেই। তবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, মানুষের কাজ করতে প্রভাব-প্রতিপত্তি বা তারকার স্ট্যাম্প লাগে না। লোকের বাড়ি বাসন মেজেও মন্ত্রীর কুর্সিতে বসা যায়।
বাঁকুড়ার শালতোড়ার দুবারের বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি। নাহ, তাঁরও কোনও সেলিব্রিটি ইমেজ নেই। ২০২১ সালের আগে তাঁকে রাজ্যের ৯০ শতাংশ মানুষই চিনতেন না। আর পাঁচজন খেটে খাওয়া মানুষেরই একজন ছিলেন চন্দনা। পরিবারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করতেন। একুশে বিজেপি টিকিট দেয় তাঁকে। বিজেপির ওই দুর্দিনেও চন্দনাকে জিতিয়ে ছিলেন এলাকার মানুষ। ছাব্বিশেও তাঁকে টিকিট দেয় দল। এবারও আসন ধরে রেখেছেন তিনি।
দু'বারের বিধায়ক হয়েও কিন্তু জীবনযাত্রা বদলায়নি চন্দনার। এখনও ফেনাভাত ও আলুসেদ্ধ দিয়েই দিন শুরু হয় চন্দনার। ৬ ধরে ক্ষমতায় থেকেও জীবনযাত্রায় কোনও চাকচিক্য আসেনি তাঁর। এখনও ভোরে উঠে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনি রান্না করেন। প্রয়োজনে হাত লাগান স্বামীর কাজেও। নিজের জীবনে পরিবর্তন নয়, এলাকার মানুষদের সুদিন ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
এই তালিকায় রয়েছেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। অত্যন্ত অভাবী পরিবারে বেড়ে ওঠা। আর্থিক টানাটানিতে পড়াশোনা সেভাবে করতে পারেননি। বিয়ের পরেও আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ সেভাবে দেখেননি। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক স্বামীর উপার্জনে নুন আনতে পান্তা ফুরোত। সেখান থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। চব্বিশে লোকসভা ভোটে বিজেপি টিকিট দিলেও জয়ী হতে পারেননি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রেখার উপর আস্থা রেখেছেন এলাকার মানুষ।
তালিকায় রয়েছেন 'বিদ্রোহী' তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগও। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে মাঠে যেতেন মিতালি। হাত লাগাতেন চাষের কাজে। পরবর্তীতে অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করেছেন তিনি। বয়স বেড়েছে, অন্য পরিচয় জুড়েছে জীবনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। সাংসদ হয়েছেন। শত ব্যবস্তার মধ্যেও যেটুকু সময় পান এখনও তা তিনি দেন মাঠেই
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 06:19 PM Jun 30, 2026Updated: 06:19 PM Jun 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
