সৌরভ মাজি, বর্ধমান: পোষ্য ছাগলের মৃত্যুশোকে আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? পূর্ব বর্ধমানের নারায়ণপুর গ্রামে বাড়ির পিছন দিকের কাঠামোয় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। জামালপুর থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
শনিবার রাতে খাবার খাওয়ার পর একই ঘরে ঘুমোতে যায় বছর চব্বিশের দুলালী ও তার বোন। রবিবার সকালে বোন ঘুম থেকে ওঠার পর দুলালীকে দেখতে পায়নি। শুরু হয় খোঁজ। কিছুক্ষণ পর তাঁরা দেখেন ঘরের পিছন দিকের কাঠামো থেকে ঝুলছে দুলালীর নিথর দেহ। ওই তরুণীর দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আত্মঘাতী হলে পা বাঁধল কে?
[আরও পড়ুন: ‘পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, মানুষের কান্না শুনুন, গণতন্ত্রকে বাঁচান’, বিচারব্যবস্থার কাছে আরজি মুখ্যমন্ত্রীর]
মৃতার দাদা অরূপ মালিক জানান, “পাড়ায় বোনের বা পরিবারের কোনও শত্রু নেই। বোনকে কেউ খুন করতে পারে তা ভাবতেই পারছি না। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য সামনে আসবে।” পরিজনদের একাংশের দাবি, কয়েকদিন আগে বাড়ির পোষ্য ছাগলের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই দুলালী মাঝেমাঝেই কান্নাকাটি করত। খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করছিল না। পোষ্যের মৃত্যুশোক সামলাতে না পেরে দুলালী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই দাবি তাঁদের।
খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে তা সঠিকভাবে জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় পুলিশ। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রায়না থানার বাঁধগাছা গ্রামে পোষ্য ছাগলের মৃত্যশোকে বৃষ্টি বাউড়ি নামে বছর এগারোর এক কিশোরী আত্মহত্যা করে। তারপরই দুলালীর মৃত্যু নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে নানা প্রশ্ন।
