সরকারি চাকরির স্বপ্নপূরণ ও মেধার উদ্যাপনে চাঁদের হাট বসল কলকাতায়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা সাফল্যের এক মহীরুহ রবিবার প্রত্যক্ষ করল আবেগঘন মুহূর্ত। বিশ্ব বাংলা প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত রাইস এডুকেশনের ১৬তম সমাবর্তন উৎসবে যোগ্যতার অনন্য স্বীকৃতি পেলেন সফল প্রার্থীরা। চার হাজারেরও বেশি পড়ুয়া ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠল এক মহামিলন ক্ষেত্র।
নিজস্ব ছবি।
১৯৮৫ সালে বেলঘরিয়ার এক চিলতে ঘর থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। আজ তা পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান সরকারি চাকরির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ডব্লিউবিসিএস, এসএসসি, ব্যাঙ্ক বা রেল— গত চার দশকে হাজার হাজার কর্মপ্রার্থীকে দিশা দেখিয়েছে এই সংস্থা। রবিবাসরীয় অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলার সাফল্যের কাহিনিই নতুন করে ডানা মেলল। কৃতীদের সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন আইএএস দেবাশিস সেন। মূল অনুষ্ঠানের আগে সকলে মিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনেন। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে সততা, শৃঙ্খলা এবং দেশগঠনে নিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
নিজস্ব ছবি।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেধার চরম স্বীকৃতি। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য কয়েকজন শীর্ষ কৃতীর হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন গাড়ির চাবি। এই অভাবনীয় উপহারের মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা প্রেক্ষাগৃহ। সফল পড়ুয়ারা কর্মজীবনে নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখার শপথ নেন। সাবেক পড়ুয়ারা বর্তমান পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তাঁদের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।
রাইসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সমিত রায় বলেন, এই উৎসব বহু বছরের ত্যাগ ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। সংস্থার সিইও সোমনাথ আচার্য জানান, আগামীদিনেও প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর পাশে থেকে দেশের অগ্রগতিতে অংশীদার হতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
