সেমিকন্ডাক্টর দুনিয়ায় ভারতে যে জোয়ার এসেছে, সেখানে নয়া দিগন্ত খুলে গেল এ রাজ্যেও। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বি.টেক স্তরে ভিএলএসআই ডিজাইনের পড়াশোনা শুরু করছে কলকাতার অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি।
বিশ্বজুড়ে এখন চিপ তৈরির বিপুল চাহিদা। সারা বিশ্বে এই বাজারের মূল্য ৯০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ভারতও দ্রুত হয়ে উঠছে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর হাব। দেশ-বিদেশের নানা সংস্থা তৈরি করছে চিপ তৈরির প্ল্যান্ট। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’-র জন্য ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ফলে দেশে ভিএলএসআই বা ‘ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন’ বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। অথচ সেই তুলনায় যোগ্য কর্মীর দেখা মিলছে কই!
শিল্পক্ষেত্রের এই ঘাটতি মেটাতেই উদ্যোগী হল অ্যাডামাস। পূর্বভারতের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা চালু করছে ‘ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ভিএলএসআই ডিজাইন’ কোর্স। চার বছরের এই পাঠ্যক্রম চালুর জন্য হাত মেলানো হয়েছে ‘ভিএলএসআই সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে ‘জে সি বোস সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. সমিত রায়, সহ-উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, ‘ভিএলএসআই সোসাইটি’-র প্রেসিডেন্ট ড. সত্য গুপ্ত এবং ‘এইচসিএলটেক’-এর আধিকারিক বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত থেকে এই কোর্সের শুভ সূচনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, আপাতত কোর্সটির আসন সংখ্যা ২৫। পড়ার খরচ প্রায় ছ’লাখ টাকা। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের র্যাঙ্কের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া যাবে। ড. সত্য গুপ্ত জানান, ক্লাসে শুধু থিওরি নয়, হাতে-কলমে ডিজাইনিং শেখানো হবে। স্টার্ট আপ খুলতে চাইলে মিলবে ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শও। পড়াতে আসবেন নানা কর্পোরেট বিশেষজ্ঞও। এইচসিএল-এর আধিকারিক বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ফিজিক্স ও অঙ্কে দক্ষতা থাকলে এই ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রে বিপুল সুযোগ মিলবে।
