সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দির আগ্রাসন নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব দেশের দক্ষিণ রাজ্যগুলি। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রেও একই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। মারাঠি না বলতে পারার 'অপরাধে' কোথাও আক্রান্ত হতে হয়েছে নিরীহ দোকানদারকে। আবার কোথাও ব্যাংকে মারাঠি বলতে অস্বীকার করার বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মহারাষ্ট্রে মারাঠি অস্মিতার পালে হাওয়া দিতে এবার বড় পদক্ষেপ আমির খানের!
'খান' পদবীর জেরে একাধিকবার দেশদ্রোহী খোঁটা খেতে হয়েছে আমিরকে। শুধু তাই নয়, ধর্মকে শিখণ্ডি করে একাধিকবার দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তবে অভিনেতা বরাবর সিনেমার মাধ্যমেই দেশপ্রেমের প্রমাণ রেখেছেন। এবার মহারাষ্ট্রে ভাষা বিতর্কের মাঝে বড় কথা ফাঁস করলেন 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'। গৃহশিক্ষক রেখে রীতিমতো মারাঠি ভাষা শিখতে হয়েছে তাঁকে। যদিও অভিনেতা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের 'ভাষাসন্ত্রাস' নিয়ে কতিপয় শব্দ খরচ করেননি। তবে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনিও মারাঠা ভক্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এবিষয়ে মুখ খুলেছিলেন আমির খান। সেখানেই তিনি জানান, "৪৪ বছর বয়সে মারাঠি ভাষা শিখলাম।" কিন্তু আচমকাই কেন এই ভাষা শেখার প্রয়োজন পড়ল অভিনেতার? মহারাষ্ট্রে চলতি 'ভাষাসন্ত্রাসে'র জেরেই কি তাঁর বোধদয় ঘটল? এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়! তবে আমিরের ব্যাখ্যা অন্যরকম।
কী বললেন 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'? আমির খান জানিয়েছেন, "আমার মনে হয়, আপনি যে কোনও পেশার সঙ্গেই যুক্ত থাকুন না কেন, যত বেশি ভাষা জানবেন, বলতে পারবেন, সেটা আখেড়ে আপনার জন্যই লাভজনক। তাই সব ধরণের ভাষা শেখা উচিত। আমি যদিও ভাষাজ্ঞানের বিষয়ে ভীষণ দুর্বল। আমারও সময় লেগেছে নতুন নতুন ভাষা শিখতে।" সেই কথোপকথনেই অভিনেতার সংযোজন, "৪৪ বছর বয়সে এসে উপলব্ধি করলাম যে, আমি তো মারাঠি ভাষা জানি না। যদিও স্কুলে শেখানো হত, তবে সেসময়ে খুব একটা ধ্যান দিইনি এই বিষয়ে। আমার নিজেরই লজ্জাবোধ হল এটা ভেবে যে, নিজের রাজ্যের ভাষাটাই ঠিক করে বলতে পারি না! তার পর একজন গৃহশিক্ষক রেখে তাঁর কাছে মারাঠি ভাষা শিখলাম। এখন তো গড়গড়িয়ে বলতেও পারি।"
