২৫মে, সোমবার পড়ন্ত বিকেলে রাইসিনা হিলসে টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’র হাতে উঠল পদ্ম সম্মান। অভিনয় জীবনের চার দশক কাটিয়ে ফেলার পর এ এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য। পরনে ধবধবে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। গলার কাছে সোনালি সুতোয় করা কারুকাজ। পদ্ম সম্মানের মঞ্চে পোশাকশিল্পী অভিষেক রায়ের ডিজাইন করা পোশাকে আদ্যোপান্ত 'বাঙালিবাবু' বেশে ধরা দিলেন বাংলা সিনে'ইন্ডাস্ট্রি'।
সোমবার তাঁকে ধুতি পাঞ্জাবিতে দেখাচ্ছিল চমৎকার। জানা গেল, ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়ই প্রসেনজিতের জন্য এহেন পোশাক পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিষেকের মন্তব্য, "প্রসেনজিৎ চেয়েছিলেন, তাঁর এই পোশাকে যেন বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকে। আর সেটা যেন...।"
জানুয়ারি মাসে সাধারণতন্ত্র দিবসেই পদ্ম সম্মানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময়েই জানা যায়, বাংলা সিনেমায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করলেন তিনি। সপ্তাহের প্রথম দিন পুরস্কার গ্রহণের সময় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রসেনজিৎ। পদ্মশ্রী পেয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেতা জানালেন, "আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি মায়ের কথা মনে পড়ছে।" এই সম্মান তাঁর কাছে যে অত্যন্ত গর্বের, সেকথা জানাতেও ভোলেননি 'ইন্ডাস্ট্রি'। তার কারণ, শুধুমাত্র বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেই এই সম্মান প্রাপ্তি তাঁর। সোমবার তাঁকে ধুতি পাঞ্জাবিতে দেখাচ্ছিল চমৎকার। জানা গেল, ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়ই প্রসেনজিতের জন্য এহেন পোশাক পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিষেকের মন্তব্য, "প্রসেনজিৎ চেয়েছিলেন, তাঁর এই পোশাকে যেন বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকে। আর সেটা যেন খুব সাধারণ হয়। হাতে করা নকশা মোটিফ থাকলে ভালো হয়। বুম্বাদার কথামতো ঠিক সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি পোশাকে।"
প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। প্রায় চার দশকের অভিনয় জীবনে টলিউডকে উর্বর করতে অনেক অবদান রয়েছে তাঁর। সেই অবদানের কথা মাথায় রেখেই টলিউডের সুপারস্টারকে এই সম্মাননা। একটা সময় বাংলা ছবির দুঃসময়ে প্রায় সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন ‘বুম্বা’। তাঁর হাত ধরেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল কমার্শিয়াল ছবি। গোটা ফিল্মি কেরিয়ারে অভিনয় করেছেন প্রায় সাড়ে তিনশোর বেশি ছবিতে। ১৯৬৮ সালে বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে হাতেখড়ি। বাংলা ছবির হিরো হিসেবে তিনি ধরা দেন ‘অমরসঙ্গী’র হাত ধরে। তার পর গত চার দশকের অভিনয় জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টলিউডকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অভিভাবকের মতো। এবার তারই স্বীকৃতি এল জাতীয় স্তর থেকে।
