দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের 'রক্তাক্ত' পরিস্থিতি নিয়ে টুঁ শব্দটি না করায় পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন চেয়ারম্যান তথা অভিনেতা মাধবন। বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মাধবনের অফিসের দরজায় 'নিট ফর সেল' লেখা পোস্টার ঝোলায় পড়ুয়ারা। পড়ে 'নিখোঁজ' পোস্টারও। সেই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নেটভুবনে ভাইরাল হতেই বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখান 'ম্যাডি'। গত চব্বিশ ঘণ্টায় উত্তরোত্তর কটাক্ষ, সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেশ বৃহস্পতিবার সাতসকালে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের হয়ে মুখ খোলেন পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মাধবন (R Madhavan)।
"ভবিষ্যতে আর কেউ আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। আমার বিশ্বাস ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে সরকার..."
সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে নিট কেলেঙ্কারিতে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন অভিনেতা। আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি যে, ভারতের তরুণ প্রজন্ম অসীম সম্ভাবনাময়। তাই আজ দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ, হতাশার কারণটা বুঝতে পারছি। এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য পড়ুয়াদের জন্য আত্মবিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা ও সুযোগের পথ প্রশস্ত করা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সেই আস্থা ভেঙে দিয়েছে। যার জেরে দেশের অসংখ্য তরুণ ও তাদের পরিবারের আশা, কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্ন- গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া ভারতের মতো দেশে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের কাছে আমার আর্জি দোষীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। আমার বিশ্বাস ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে সরকার নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।"
সোনম-সিজেপি নিয়ে চুপ! ফিল্ম পড়ুয়াদের রোষে মাধবন, দরজায় ঝুলল ‘নিট ফর সেল’ পোস্টার
"অনেকেই এখন তোমাদের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে কিংবা তোমাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে চাইতে পারে।..."
বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের উদ্দেশে মাধবনের সংযোজন, "কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাও, নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো। আর সাময়িক কোনও বাধা বা ব্যর্থতাকে তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিও না। আর হ্যাঁ, পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ে সতর্ক করে দিতে চাই যে- স্বার্থান্বেষীমহলের অনেকেই এখন তোমাদের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে কিংবা তোমাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে চাইতে পারে। সতর্ক থেকো।"
অতীতে 'রং দে বাসন্তী', 'থ্রি ইডিয়টস'-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন আর মাধবন। যে ছবিতে শিক্ষার্থীদের বৈপ্লবিক সত্ত্বা, অন্যায়ের প্রতিবাদের কথা ফুটে উঠেছে। কিন্তু দেশের পড়ুয়াদের হয়ে মুখ না খোলায় এফটিআইআই পড়ুয়ারা চেয়ারম্যান মাধবনকে ছেড়ে কথা বলেননি। প্রশ্ন তুলেছিলেন, 'থ্রি ইডিয়টস' খ্যাত অভিনেতা ওমি বৈদ্য ওরফে 'সাইলেন্সার' সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে প্রতিবাদ করে যেখানে 'ভিলেন' থেকে সোশাল পাড়ার 'হিরো' হয়ে উঠেছেন, সেখানে পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান হয়েও আপনি চুপ কেন? যার জেরে অভিনেতাকে দেশের যুব প্রজন্মের রোষানলেও পড়তে হয়। বিতর্কের ঝড়ে বৃহস্পতিবার শেষমেশ মুখ খুললেন মাধবন।
