আইনি ঘেরাটোপে এবার সত্যিই বিশ বাঁও জলে 'হেরা ফেরি ৩'? 'ভূত বাংলা' মুক্তির পর একটি ইউটিউব চ্যানেলের অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অক্ষয়। খোলামেলা আড্ডায় উঠে এসেছে অক্ষয়ের জীবনের নানা কাহিনি। ব্যক্তিগতজীবন থেকে ফিল্মি কেরিয়ার সহ একাধিক বিষয়ে কথা বলেছেন আক্কি। আলাপচারিতার খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে 'হেরা ফেরি ৩' (Hera Pheri 3) প্রসঙ্গ। আইনি জট কাটিয়ে দিনের আলো দেখবে এই ছবি? অক্ষয়ের অকপট জবাব, "আপাতত কিছুই হচ্ছে না"। এই খবরে হতাশ 'হেরা ফেরি' ফ্রাঞ্চাইজির দর্শক। নির্মেদ কমেডি হিসেবে অক্ষয় কুমার, পরেশ রাওয়াল ও সুনীল শেট্টির 'হেরা ফেরি' ব্যাপক জনপ্রিয় দর্শকমহলে। তৃতীয় ভাগে বিনোদনের ডোজও তিন গুণ বেড়ে যাবে বলেই আশাবাদী ছিল দর্শক।
শোয়ের সঞ্চালক যখন অক্ষয়কে প্রশ্ন করেন, এই খবরে তিনি কতটা হতবাক অভিনেতার উত্তর, "এটা আমার কাছে একটা বিরাট ধাক্কা। তবে সমস্যা নেই, যেটা হবে মেনে নিয়েছি। আগামীতে যাতে সব ঠিক হয়ে যায় সেই প্রার্থনাই করতে হবে। আগামী এক বছরের জন্য হেরা ফেরি ৩র কাজ স্থগিত। অনেক সমস্যা আছে, আমরা তিনজনই যে সমস্যার প্রধান কারণ এমনটা নয়। এমন অনেক বিষয় আছে যা আমি ক্যামেরার সামনে বলতে পারি না। চুক্তি-সংক্রান্ত বেশ কিছু ব্যাপার রয়েছে যা এই প্রজেক্টটাকে ক্রমশ পিছিয়ে দিচ্ছে। সঠিক সময়ে নিশ্চয়ই সঠিক কিছুই হবে। একটাই কামনা, এমন সময় যেন ছবি তৈরি না হয় যখন আমরা বুড়িয়ে যাব।"
অন্ধকারে 'হেরা ফেরি ৩'র ভবিষ্যৎ
এই ছবির স্বত্ব নিয়েই যত জটিলতার সূত্রপাত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছে প্রযোজনা সংস্থা ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।’মাদ্রাজ হাই কোর্টে এই নিয়ে মামলা দায়ের করেছেন দক্ষিণী প্রযোজক জিপি বিজয়কুমার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেছিলেন, "এই ছবির স্বত্ব ২০২২ সালেই প্রযোজক রামোজি রাও স্পিকিংয়ের থেকে কিনে নিয়েছেন তিনি। এই ছবির স্বত্ব কোনওভাবেই ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার নয়। তাই তা তিনি কোনওভাবে বেচতেও পারেন না। এর অধিকার তাঁর নেই। এই ছবির একটি সিক্যুয়েল বানানোর স্বত্বই শুধুমাত্র পেয়েছিলেন ফিরোজ। ‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই ছবি ২০০৬ সালে মুক্তি পায়। এরপর থেকে এই ছবির কোনওরকম সিক্যুয়েল বা প্রিকুয়েল বানানোর অধিকার আর তাঁর নেই। তিনি যা করেছেন তা আইনবিরুদ্ধ।”
উল্লেখ্য, এর আগে ‘হেরা ফেরি ৩’-এর স্বত্ব কিনেছিলেন ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার থেকে অক্ষয় কুমার। অক্ষয় কুমারের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে বিজয়কুমার যোগাযোগ করার পরই এই বিষয় সম্পর্কে অবগত হন তিনি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্যদিকে অক্ষয় কুমারের প্রযোজনা সংস্থার দাবি তাঁরা ফিরোজের থেকে সমস্ত পদ্ধতি মেনেই এই স্বত্ব কিনেছে।
অন্ধকারে 'হেরা ফেরি ৩'র ভবিষ্যৎ
পালটা ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ প্রশ্ন তুলেছে, যার কাছে এই স্বত্ব বিক্রি করার কোনও অধিকারই নেই সে কী করে তা বেচতে পারে? বলে রাখা জরুরি, যেহেতু ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার থেকে এই স্বত্ব কিনেছে অক্ষয়ের প্রযোজনা সংস্থা সেহেতু ফিরোজের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষয়ও এই জটিলতার শিকার। সবমিলিয়ে এখন 'হেরা ফেরি ৩'র ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
