shono
Advertisement
The Voice of Hind Rajab

রণক্লান্ত পৃথিবীতে স্তব্ধ হয়ে দেখার মতো ছবি, তুলে ধরে গাজার নারকীয়তা! এবার দেখা যাবে এই শহরেও

পরিচালক কাউথের বেন হানিয়ার 'দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজাব' মাস্ট ওয়াচ ছবি। এখনও চলছে শহরে। ছবিটি তিউনিসিয়ার অস্কার নমিনেশনেও ছিল।
Published By: Biswadip DeyPosted: 01:55 PM Jul 06, 2026Updated: 02:46 PM Jul 06, 2026

সপ্তাহ দুয়েক আগেই এই শহরে মুক্তি পেয়েছে বেন হানিয়ার 'দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজাব'। যুদ্ধক্লান্ত এই পৃথিবীতে এমন ছবি স্তব্ধ হয়ে দেখতে হয়। ছবিটি তিউনিসিয়ার অস্কার নমিনেশনেও ছিল। ভাগ্যে শিকে না ছিঁড়লেও এই বছরে এমন যুদ্ধবিরোধী অভিঘাত রেখে যাওয়ার ছবি মনে দাগ কেটে যায়।

Advertisement

ঘটনাস্থল: ইজরায়েলি আক্রমণে ধ্বংসস্তূপ গাজা শহরের একটি রাস্তা। সময়: ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেখানে একটা গাড়ির মধ্যে আটকে পড়েছে হিন্দ রজাব নামের এক প্যালেস্তিনীয় কিশোরী। তার আত্মীয়-পরিজনরা ওকে নিয়েই হয়তো শহর ছাড়তে চাইছিল। রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণে গাড়িটি মাঝ রাস্তায় অচল। শিশু হিন্দ রজাব ছাড়া সবাই মৃত। গাড়ির দরজাও খোলা যাচ্ছে না। কিশোরী শুধু কাঁদছে। আসনের পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনটি তুলে সে রেড ক্রিসেন্ট নামের সাহায্যকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্ত চিৎকারে শুধু বলছে- 'আমাকে বাঁচাও। সামনে সাঁজোয়া গাড়ি আসছে। আমি আটকে পড়েছি গাড়ির মধ্যে। আমায় বাঁচাও।' রেড ক্রসের অফিসে কর্মরত তরুণ-তরুণী তক্ষুনি যোগাযোগ করে অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে। কিন্তু শহরের প্রায় সব রাস্তা বন্ধ যুদ্ধের জন্য। প্যালেস্টাইনি সামরিক বাহিনীর সবুজ সংকেত না পেলে অ্যাম্বুল্যান্স এগোতে পারবে না।

ছবিটি তিউনিসিয়ার অস্কার নমিনেশনেও ছিল। ভাগ্যে শিকে না ছিঁড়লেও এই বছরে এমন যুদ্ধবিরোধী অভিঘাত রেখে যাওয়ার ছবি মনে দাগ কেটে যায়।

জীবন-মৃত্যুর এমন বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাঁচার জন্য হিন্দ রজাবের আকুল আর্তি ও সাহায্য প্রার্থনায় রেড ক্রিসেন্টের (ওখানকার রেড ক্রস) কর্মীরাও কিছু করে উঠতে পারে না। ঘটনাটি সত্যিই ওইদিন ঘটেছিল। ছবির পরিচালক তিউনিসিয়ার তরুণী কাউথের বেন্ হানিয়া হাতে পেয়েছিলেন হিন্দ রজাব ও রেড ক্রসের সঙ্গে আকুল আবেদনের টেপটি। শুধু ওই সাউন্ড টেপটি নিয়েই বাকি ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছেন তিনি। গল্পহীন, শিরদাঁড়া সোজা রাখা ঘটনার মতো দৃশ্যের বিন্যাস দর্শককে যুদ্ধ না দেখিয়েও যুদ্ধের ভয়াবহতার মুখোমুখি করে দেয়। এমন শক্তিশালী বাঁধুনি চিত্রনাট্যের। হয়তো বা একটু বেশিই আবেগপূর্ণ পরিবেশন, কিন্তু তৎকালীন প্যালেস্টাইনে নৃশংস ইজরায়েলি আক্রমণের দিনগুলোর কথা ভাবলে এই ছবি নিশ্চিত ভাবে মনে করিয়ে দেয় গিলো পন্টেকোর্ভো 'কাপো', বা যোশেফ ম্যানিকিউজের 'নো ওয়ে আউট' ছবির কথা।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য হিন্দ রজাবের গাড়ির ওপর আগুয়ান সাঁজোয়া গাড়ি থেকে একটি গোলা এসে পড়ে। হিন্দ রজাবের আর্তচিৎকার চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। ফোনের অন্য প্রান্তে রেড ক্রসের কর্মীরা শোকে বিহ্বল এবং উন্মাদও। গত এক ঘণ্টা ধরে নানা ভাবে চেষ্টা করেও তারা পারেনি একটা অ্যাম্বুল্যান্স অকুস্থলে পাঠাতে। ছবি দেখতে এসে দর্শক যুদ্ধের পাশবিক হিংস্রতা উপলব্ধি করতে পারেন এবং বুঝতেও পারেন বৃহৎ শক্তির সামনে মানুষও কত অসহায়। ডকুমেন্টারি ফরম্যাটে তোলা কাউথের এই ছবি গতবছর ভেনিস উৎসবে জুরিদের বিচারে স্পেশাল সম্মান স্বরূপ গোল্ডেন লায়ন জিতেছিল। তার পরে বেরিয়েছিল বিশ্বজয়ে। দেখানো হয়েছিল কলকাতার ফিল্মোৎসবেও।

মজার ঘটনা এ দেশের সেন্সর বোর্ড ক'মাস আগেই 'দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজাব'-কে ছাড়পত্র দেওয়ার উপযুক্ত মনে করেনি। তাদের যুক্তি ছিল ভারত-ইজরায়েলের সম্পর্কে আঘাত করতে পারে এই ছবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের পর এবার একটুও না কেটেই 'আনকাট' সেন্সর সার্টিফিকেট নিয়ে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। তিউনিসিয়া নামের একটি ছোট্ট দেশ একসময় ফরাসি শাসনে থেকেও শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতা কী ও কেমন সেটা উপলব্ধি করেছে বলেই এমন একটি যুদ্ধ-বিরোধী মানবিক ছবি তৈরি করতে পারল। এখন তাই কাউথের বেন হানিয়ার নাম তিউনিসিয়া সিনেমায় নৌরি বউজাদের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়। এবং তাঁরাই পারেন এমন সাহসী ছবি বানাতে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement