নিট কেলেঙ্কারি ইস্যুতে গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় ছাত্র মিছিল থেকে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। সাংবাদিক নিগ্রহের মতো ঘটনাও ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই শুরু হয় ধরপাকড়। এবার বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষের নিশানায় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। আন্দোলনের নামে নোংরামি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি বিকৃত করে প্রদর্শনের অভিযোগে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিনেত্রী 'টুকরে গ্যাং'য়ের সঙ্গে শামিল রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন কেয়া ঘোষ। এছাড়াও বিধাননগর সাইবার থানাতেও অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপির নেতা-কর্মীরা। সর্বোপরি একাধিক থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারির দাবি জানানো হয়েছে। অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
কোন কোন ধারায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের? ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ (বিএনএস) ৩৫২ ধারায় ইচ্ছাকৃত কারও ভাবমূর্তি বা মর্যাদা নষ্ট করার অভিসন্ধি যা দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে। ৩৫৩ ধারায় প্রকাশ্যে উসকানিমূলক তথ্য প্রদর্শন বা আচারণ করে জনরোষের সৃষ্টি করা। ১৯ (১)(২) ধারায় সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অনুমতি দিলেও তা শর্তসাপেক্ষ। ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত মানহানির জন্য ভাবমূর্তি নষ্ট।
শ্রীলেখা মিত্রর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ কেয়া ঘোষের? গত শুক্রবার কলকাতায় একটি ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন শ্রীলেখা। অভিযোগ, সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কুরুচিকর পোস্টার প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার প্রতিবাদেই সুর চড়িয়েছে গৈরিক সমাজ।
ঘটনায় মুখ খুললেন অভিযুক্ত শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর কথায়, "আমি যতই বিজেপি বা মোদি বিরোধী হই আমাকে যদি কেউ দেশদ্রোহী আখ্যা দেন সেটা ঠিক ততটাই হাস্যকর যদি কেউ মনে করেন আমি ইচ্ছাকৃত ওরকম একটা ছবি হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেছি। পেটে কিছুটা হলেও তো শিক্ষা আছে। আসলে তখন আমার চোখে রোদ চশমা ছিল। আর সেই মুহূর্তে পুলিশের লাঠিচার্জও হচ্ছিল। তাই কোনওক্রমে পোস্টারটি তুলেছিলাম। ঘুরিয়েও দেখিনি সেখানে মোদিজির কেমন ছবি রয়েছে। পোস্টারটাও সাইজে বেশ ছোট। তাই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি মোদিজির বিকৃত কোনও ছবি আমার হাতে রয়েছে।"
গ্রেপ্তারির ভয়ে বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত নন বাঙালি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। বরং পালটা সুর চড়িয়ে একহাত নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। একের পর এক আপ্তসহায়কের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের শাস্তি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন।
