ব্যাপক বিতর্ক, জনরোষের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখ্য দাবি পূরণ হলেও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। শনিবার 'আরশোলা'র প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপকের কথায়, "এখানেই শেষ নয়, ককরোচদের আরও অনেক পথচলা বাকি।" 'ককরোচ'দের বিক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছে নিট কেলেঙ্কারি ইস্যুতে পথে নেমেছিল যুবসমাজও। 'জেন জি'কে কুর্নিশ জানিয়েছে তারকামহল। এই আন্দোলনকে সমর্থন করলেও অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন বেশ কিছু অভিযোগও খাঁড়া করেছেন।
মিজোরামের শান্তিপূর্ণ ছাত্রআন্দোলনের উদাহরণ ধার করে বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত বিচ্ছিন্ন ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। বেশ কিছু রাজ্যে আন্দোলন মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। খাস কলকাতাতেই ছাত্র আন্দোনলের নামে নোংরামির অভিযোগ উঠেছে। অভিনেত্রীর দাবি, এই আন্দোলন বিভিন্ন রাজ্যে দুষ্কৃতী, রাজনৈতিক আস্ফালনের শিকার। অনেকে তো আবার সেলফি ম্যানিয়ার জন্যও ছাত্রআন্দোনলে অংশগ্রহণ করতে ছুটে এসেছেন। এরকম কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার কারণেই ন্যায় বিচারের লড়াইয়ে স্বচ্ছ আন্দোনল কলঙ্কিত হয়েছে।
যুবসমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের প্রশংসা করেছেন, যা তাঁর মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। রবিনার বিশ্বাস, এই আন্দোলন ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। আন্দোলনের অংশ হিসেবে মিজোরামে শত শত ছাত্রছাত্রী একত্রিত হয়ে 'গিভ মি সাম সানসাইন' গানটি গেয়ে ঐক্য ও সংহতির এক শক্তিশালী বার্তা দেন। সেই প্রসঙ্গে লেখেন, 'মিজোরাম এবং অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন সবার সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁদেরকে স্যুালট। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজ্যে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দুষ্কৃতী, রাজনৈতিক দল এবং এমন কিছু মানুষের হাতে চলে যায়, যারা শুধু রিল বানিয়ে প্রচারের আলোয় আসতে চেয়েছিল। তবুও শেষ পর্যন্ত ন্যায্য দাবিরই জয় হয়েছে।'
রবিনার বক্তব্য
অভিনেত্রীর সংযোজন, 'হিংসা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি অবশ্যই উচ্ছৃঙ্খল কিছু মানুষের কাজ। প্রার্থনা করি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সরকারি স্কুলগুলো দুর্নীতিমুক্ত হবে। সকলের জন্য শিক্ষার সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে।' তাঁর কথায়, 'যব পড়েগা ইন্ডিয়া, বাড়েগা ইন্ডিয়া।' বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এটি ছাত্রদের জয়ের প্রথম ধাপ। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এবং ছাত্রদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।"
সাম্প্রতিক অতীতে পরিবেশ রক্ষা, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিষয়ক আন্দোলনের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেছেন রবিনা ট্যান্ডন। অভিনেত্রীর মতে, মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বুঝতে হবে যে পৃথিবীর বিকল্প কোনও গ্রহ নেই। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রবিনার নিজের মত ব্যক্ত করে লেখেন, 'মানুষের কণ্ঠস্বর অবশেষে শোনা হচ্ছে দেখে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। এতদিন পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণের জন্য আন্দোলন বিফলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষের চেতনাবৃদ্ধি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বুঝতে হবে 'প্ল্যানেট বি' বলে কিছু নেই। এটাই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য রক্ষা করতে হবে।'
