অনুপম খের, বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের মধ্যে একজন। মজার চরিত্র হোক বা রাশভারি ব্যক্তিত্ব সবতেই ছক্কা হাঁকান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। যে কোনও বিষয়ে অকপটে নিজের মত ব্যক্ত করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেন না। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনই পছন্দ তাঁর। কেরিয়ারের গোড়াতে সংগ্রামের কাহিনিও বিভিন্ন সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন অনুপম খের। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কেন মুম্বইয়ের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পরে সেই ফ্ল্যাট কিনেছেন মহেশ কন্যা আলিয়া ভাট।
পকেটে মাত্র ৩৭ টাকা নিয়ে মুম্বইয়ে এসেছিলেন অনুপম খের। নিজেকে একজন সফল অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন। শুধু অর্থ উপার্জনই অনুপমের জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল না, একজন আদর্শ অভিনেতা হয়ে ওঠাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। আর জীবনের এই লক্ষ্যপূরণের সঙ্গে জড়িয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির মানসিকতা।
আজ থেকে দশ বছর আগে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট বিক্রি করতে উদ্যোগী হন অনুপম, পরে সেই সম্পত্তি হয়ে যায় আলিয়ার। তিনি বলেন, "আমি আর কিরণ অন্যত্র চলে গিয়েছিলাম। একটা বাড়ি খুঁজতে আমাদের চার বছর সময় লেগেছিল। পরে যখন কিরণ সাংসদ হয়ে চণ্ডীগড়ে চলে যায় তখন মনে হল আমরা কেন এত কষ্ট করে বাড়ি খুঁজছি, সাধারণ জীবনযাপন করাই তো শ্রেয়।"
কেন নিজের ফ্ল্যাট বিক্রি করেন অনুপম?
ভাড়াবাড়িতে থাকা তাঁর কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে কারণ এতে জীবন অনেক সহজ হয় এবং জটিলতাও কম থাকে। তিনি আরও জানান, তাঁর মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল সিমলায় একটি বাড়ি থাকবে। যদিও তাঁর মা ছোট্ট একটি বাড়ি চেয়েছিলেন কিন্তু, বড় একটি বাড়িই কিনে দেন অনুপম। এখনও সাধারণ জীবনযাপনই পছন্দ করেন এবং গরমকালে সিমলায় সময় কাটান বর্ষীয়ান অভিনেতার মা। অর্থ কখনওই অনুপমকে আকৃষ্ট করে না।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজ যার কাছে দশ কোটি টাকা আছে আগামীতে সেই চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ কোটিতে। উত্তরোত্তর সেই চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কয়েকদিন বাদেই মনে মনে হবে টাকার অঙ্কটা ২৫ কোটি হলে ভালো হত। কিন্তু, ব্যর্থতাই জীবনের প্রকৃত শিক্ষক। নিজেকে নতুন করে গড়তে সাহায্য করে এবং মনে করিয়ে দেয় যে তুমি বেঁচে আছো। নিজের প্রতি কখনও হতাশ হওয়া উচিত নয়। আমিও এইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। কিন্তু তারপর আবার জীবনের আনন্দ খুঁজে পাই। মানুষ আসলে কীভাবে বাঁচতে হয়, তা ভুলে গিয়েছে।"
