পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশেও! এমতাবস্থায় দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সপ্তাহে দুদিন ওয়ার্ক ফর্ম হোমে জোর দিয়ে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি-সহ বিজেপির বাকি শীর্ষ নেতৃত্বরা নিজের কনভয়ে 'বাহনে'র সংখ্যা কমিয়েছেন। এমতাবস্থায় বিটাউনের বাকি সেলেবরা 'জায়েন্ট কনভয়' নিয়ে চলাফেরা করলেও ব্যতিক্রমী অনুপম খের। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে মান্যতা দিয়ে ট্রেনে চেপেই দূরপাল্লার সফরে গেলেন প্রবীণ অভিনেতা।
"একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার অর্থ, শুধু বড় বড় কথা বলে খালাস হওয়া নয়। বরং, আমাদের অভ্যেসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনাটাই আসল ও গুরুত্বপূর্ণ।..."
অনুপম খের বরাবরই গেরুয়া শিবির ঘনিষ্ঠ। তিনি যেমন বিজেপির সুদিনের সঙ্গী, তেমনই দুর্দিনেরও। নিজের নামের পাশে যিনি অনায়াসে 'গর্বিত হিন্দু' তকমা সাঁটতেও পিছপা হন না। এবার 'মোদির সৈনিক' হিসেবেই আমজনতাকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যেস গড়ে তোলার বার্তা দিলেন প্রবীণ অভিনেতা। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাগ করে নিয়েছেন অনুপম। সেখানেই জয়পুর থেকে দিল্লিগামী বন্দে ভারতে বসে তাঁকে বলতে শোনা গেল, "নমস্কার বন্ধুরা, মোদির জ্বালানি সাশ্রয় মিশনে দেশের জন্য আমার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের জনতার কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আমরা সকলেই যেন পেট্রোল ও ডিজেল সাশ্রয়ের চেষ্টা করি। যেখানে সম্ভব, যতটা সম্ভব, আমাদের গণপরিবহন ব্যবহার করা উচিত। শুধু তাই নয়, 'কারপুলিং'য়ের তত্ত্বে জোর দিয়ে অনুপম খেরের সংযোজন, গন্তব্য কাছাকাছি হলে কিংবা কম দূরত্বের পথ হলে আমাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আর দৈনন্দিন জীবনে এহেন ছোট ছোট পরিবর্তন এনেই দেশের কল্যাণসাধনে আমাদের প্রত্যেকের অবদান রাখা উচিত। আমার মতে, মোদিজি একদম সঠিক কথা বলেছেন। আর সেই ভাবনা থেকেই, জয়পুর থেকে দিল্লি পর্যন্ত আমি বন্দে ভারত ট্রেনে যাচ্ছি। আমার মনে হয় এটা খুব বড় ত্যাগস্বীকার নয়।"
'মোদির সৈনিক' হিসেবে আমজনতাকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যেস গড়ার বার্তা অনুপম খেরের। ছবি- সংগৃহীত
"দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দেশের সম্পদ হয়ে ওঠার জন্য শুধু একজন ভালো নাগরিক হয়ে ওঠা জরুরি।"
আমজনতার মাঝে মোদির জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা 'সুপারহিট' করতে অনুপমের (Anupam Kher) নিদান, আমরা সকলে যদি এরকম ছোট ছোট প্রয়াসের পথে পা বাড়ানো শুরু করি, তবে একদিন সেটা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলবে। বর্তমান পৃথিবীতে, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার অর্থ, শুধু বড় বড় কথা বলে খালাস হওয়া নয়। বরং, আমাদের অভ্যেসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনাটাই আসল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই যেমন- দু'জন মানুষ যদি একটি গাড়িতেই যাতায়াত করতে পারেন, তবে আলাদা আলাদা দুটি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। আমার মনে হয়, দেশের সেবা করার দায়িত্ব শুধু সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলোর মধ্যেই দেশের সেবা নিহিত থাকে। আর সেই বিষয়গুলোকে আমাদের নজরে রাখা উচিত। তাই আসুন, দেশের কল্যাণে আমরা যে যার সাধ্যমতো অবদান রাখি। ধন্যবাদ। জয় হিন্দ।" সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ না দিয়েও যে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায়, তারকাদের সম্মুখে এক বড় উদাহরণ তৈরি করলেন অনুপম খের।
সাম্প্রতিক অতীতে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছিলেন, "আমি মনে করি, দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দেশের সম্পদ হয়ে ওঠার জন্য শুধু একজন ভালো নাগরিক হয়ে ওঠা জরুরি।" নিজের সেই মতাদর্শেই এবার সিলমোহর বসালেন অনুপম খের।
