যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের 'পৈশাচিক কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি'র তথ্য শুনে চমকে উঠেছে গোটা বিশ্বের! মার্জিত চেহারার অন্তরালে এহেন কুৎসিত 'মুখ'? স্তম্ভিত গোটা দুনিয়া! বিকৃতকাম মনস্কের এই কুকীর্তির নথিতে তাবড় সব রাষ্ট্রনেতা, সেলেবদের নামোল্লেখ। এমনকী এপস্টেইনের ইমেলে মীরা নায়ার, নন্দিতা দাসের মতো পরিচালকদের পাশাপাশি অনুরাগ কাশ্যপের নামও রয়েছে। আর বুধবার সেখবর প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় বিটাউন। সমালোচনার মুখে পড়েছেন অনুরাগও। বিতর্কে জড়িয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবার মাঠে নামলেন খোদ পরিচালক।
"মাসে অন্তত ১৫টি বক্তৃতার আমন্ত্রণ পাই আমি। খুব কমই সেগুলোর উত্তর দিই। বহু মাস আগে এক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম..."
খবর, জিউসেপ বার্সানি, জিনো ইউ এবং অরনেলা কোরাজার মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের আদান-প্রদান হওয়া ইমেলগুলিতে অনুরাগ কাশ্যপকে ‘বলিউডের লোক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক কী ছিল ওই মেলগুলিতে? জানা যায়, কিউবা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এপস্টেইনের পরিকল্পিত ভ্রমণের কথা আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে অনুরাগ কাশ্যপকে বৌদ্ধধর্ম, প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা বিষয়ক সাংহাইয়ের এক কর্মশালায় প্রত্যাশিত অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেই তালিকায় বেন গোয়ের্টজেল, ব্রুস ডেমার এবং ডিজে স্পুকির মতো নামও রয়েছে। যাদের ইমেলে ‘কুল গাই’ বলে সম্বোধন করা হয়। তাহলে কি জেফরি এপস্টেইনের এহেন পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত অনুরাগ কাশ্যপও? কৌতূহল শুরু হতেই মুখ খুললেন অনুরাগ কাশ্যপ।
জানা যায়, ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের এক অনুষ্ঠানের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল পরিচালকের সঙ্গে। যেখানে এপস্টেইনের নিজেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কুখ্যাত সেই যৌন অপরাধীর সঙ্গে কি দেখা হয়েছিল? প্রশ্ন শুনেই আকাশ থেকে পড়ার জোগাড় হয় অনুরাগ কাশ্যপের। পরিচালক জানান, "আমার নাম কেন জড়াল এই বিষয়ে আমার কোনও ধারণাই নেই। মাসে অন্তত ১৫টি বক্তৃতার আমন্ত্রণ পাই আমি। খুব কমই সেগুলোর উত্তর দিই। বহু মাস আগে এক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম, কিন্তু সেটার উত্তর দিইনি। তাছাড়া আমি জীবনে কখনও বেইজিং যাইনি!" এখানেই শেষ নয়! ভাইরাল হওয়া ওই মেইলগুলি সম্পর্কে অনুরাগের মত, "মেইলগুলোর ধরণই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই বিক্ষিপ্ত উড়ো মেইলগুলো নিজেই নিজের ব্যাখ্যা দেয়। তবে হ্যাঁ, যেভাবে আমার নাম চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছে, আমার ছবিগুলি ততটাও জনপ্রিয় নয়।" এককথায় এপস্টেইন মেইলে 'বলিউড গাই' বলে সম্বোধন করা ব্যক্তি যে তিনি নন, সেটাই স্পষ্ট করলেন অনুরাগ কাশ্যপ।
