মুক্তি পাচ্ছে জয়া আহসান অভিনীত 'ওসিডি'। তার প্রাক্কালেই মুখোমুখি পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল।
ছবিটা বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পরে আসছে। এই অপেক্ষা কীসের জন্য?
- ছবিটা বেসিক্যালি আমাদের প্রোডাকশন ‘ইনডিজেনাস’ থেকে বানানো। তারপর ছবিটা রিলিজের জন্য একটা লড়াই চলে। তার মাঝখানে কিছু কাজ চলে এল আমার। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ করলাম। আমাকেও তো চলতে হবে। ‘পক্ষীরাজ’-এর জন্য প্রায় দেড় বছর গেল। তারপর ‘ওসিডি’ গত বছর রিলিজ করার কথা ছিল। কিন্তু যখন সব ফাইনাল হয়ে গেল, সেই সময় জয়ার ভিসার একটা প্রবলেম হল। গতবছর ওই জুলাইয়ের সময়ে রিলিজ করার কথা ছিল। তারপরে তো আবার হল পাওয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। ফাইনালি গতবছর আমরা পুজোর পর ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে বসে ঠিক করলাম যে ফেব্রুয়ারির আগে সময় নেই। নয়তো গতবছরই বের করতে পারতাম।
ট্রেলার দেখে বুঝেছি সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে ডিল করা হয়েছে। শিশুদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের বিষয়টা স্পষ্ট। এমন বিষয় বেছে নেওয়ার কারণ কী?
- আমি তো সমস্ত ছবিতেই শিশুদের নিয়ে কাজ করেছি। শিশুদের পয়েন্ট অফ ভিউ দেখানোর চেষ্টা করছি। আমার এটা বানাতে বানাতে মনে হল যে, রূপকথা, ফ্যান্টাসি– এই নরম দিকগুলো যেমন দেখাই, তেমনি শিশুদের যে রিয়েলিটি, এই সমস্যাটা আমরা ছোটবেলায় অনেক দেখেছি, বড় হয়েও অনেক ফেস করেছি। সেই বিষয়টা নিয়ে ছবি করব। আমি একটা বোর্ডিং স্কুলে পড়াতে গিয়েছিলাম সেখানে বাচ্চাদের অনেক ইনসিডেন্ট আমাকে চমকে দিয়েছে। তো আমার তখন থেকে বিষয়টা মাথায় এসেছিল। তখন মনে হয়েছিল যে এইটা নিয়ে কাজ ‘মনসুন ওয়েডিং’ ছাড়া, আর ‘রকফোর্ড’-এ হালকা আছে। পুরোপুরি এই বিষয় নিয়ে কোনও ছবিই হয়নি। মনে হল, ‘মিটু’ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলা হলেও পিডোফেলিয়া নিয়ে কথা বলাই হয় না। আমার এই বিষয়টা নিয়ে ছবি করা উচিত।
পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে জয়া
জয়া আহসানকে বার বার কাস্ট করার কারণ কী?
- জয়াকে ‘ভূতপরী’র পরেই এই ছবিটা নিয়ে বলি। ‘ভূতপরী’ শুট হয়েছিল ২০১৯-এ আর এই ছবির শুট হয়েছিল ২০২১ সালে। মাঝে লকডাউন গেছে। এই ছবিটার যতটা লেয়ার্স, এবং যতটা এগজস্টিং একটা রোল, তার জন্য খুব দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করার দরকার ছিল। আমার মনে হল যে আমরা যেরকম অল্পদিনে শুট করি, তারপরে দুটো বাচ্চা আছে এই ছবিতে। তাদের নিয়েও অনেকটা সময় যাবে। তার ফলে এমন একজন অভিনেত্রীর দরকার ছিল যে পুরোপুরি জাস্টিসটা করতে পারবে। অনেকটা বুঝতে পারবে। একটা টিউনিং দরকার ছিল। ‘ভূতপরী’র পরে জয়ার সঙ্গে এমন একটা টিউনিং হয়ে গেল যে আমি খুব সহজেই যেটা বলছি ও সেটা ধরে নিচ্ছে। আমার মনে হয়, শি ইজ অন অফ দ্য ফাইনেস্ট অ্যাক্টর্স, বাংলা ভাষায়। আমি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বলছি।
এই ছবিতে জয়ার (ছবিতে শ্বেতা) একটা ছোটবেলা আছে, যেটা আরশিয়া করেছে। সেটা কি অনেকটা আছে?
- বেশ খানিকটা আছে।
জয়া আহসান, ছবি: ফেসবুক
নিজেদের প্রযোজনার ছবি। অনেকটা টাকা লগ্নির ব্যাপারও আছে। একই সঙ্গে তোমার বাচ্চাদের নিয়ে ছবি করার প্রবণতা। এই ছবিটার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা?
- আমার যেটা মনে হয়েছে, সেটা হল একটা ছবি আলটিমেটলি রিটেন করে কি না। মানে ছবিটার তো দুটো দিক হয়। একটা যেমন বেরনোর পরে রিঅ্যাকশন, আর একটা হচ্ছে লংটার্ম বাণিজ্য। ছবির যে লংটার্ম বাণিজ্য হয় সেটা আমি ‘রেনবো জেলি’-র পরে অল্প অল্প বুঝেছি। যেভাবে আমরা অন্য প্রযোজনায় ছবি করি, সেটা যেভাবে বোঝানো হয় তা বেঠিক। কারণ ছবির লংটার্ম বাণিজ্যে কীভাবে ছবি হয় সেটা আমি জানি, অতটা কঠিনও নয়। আমাদের বোঝানো হয় যে, শুক্র, শনি, রবি, সোমের মধ্যে সব তুলে নিতে হবে। সেটা ঠিক নয়। বাণিজ্যের দিক আমি ছেড়ে দিচ্ছি। ছবির যেটা সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট সেটা হল, ছবি রিলিজের পরে যে রিঅ্যাকশনটা। সেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। একটা সময় ছবির নির্ভরতা ছিল এন্টারটেনমেন্ট। ওটা দশ-বারো বছরের একটা পুরনো কনসেপ্ট। পোস্ট লকডাউনে আমার মনে হয়েছে আমাদের মূল ক্রাইসিস হচ্ছে এনগেজমেন্ট। তোমার ছবি যত এনগেজিং, তোমার টেনশন হবে না। তাতে এন্টারটেনমেন্ট থাকুক আর না থাকুক বা ভায়োলেন্স থাকুক। মোট কথা হল, ছবিটা এনগেজিং কি না। দর্শক যদি এনগেজ হয় তাহলে তোমার ছবি থেকে যাবে।
তাহলে কি ছবি নিয়ে আশাবাদী?
- আমি আশাবাদী। একটা ছবি তুমি কানেক্ট করতে পারলে দর্শক তোমাকে ফেরাবে না। আসল হচ্ছে রিলিজ টাইমিং।
ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্স কতটা বুঝতে পারছেন এই ছবিটা রিলিজ করতে গিয়ে।
- এখনও পারছি না। রিলিজের পরে বুঝতে পারব কী দাঁড়ায়। (হাসি)
