বৃহস্পতিবার সকালে যৌন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীর। ২৪ ঘণ্টা ধরে প্রেমিকাকে বাড়িতে আটকে রেখে যৌন হেনস্তা ও শারীরিক অত্যাচার চালানোর ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে শমীকের বিরুদ্ধে। বুধবার বেহালা থানায় এফআইআর দায়ের করেন নির্যাতিত ওই তরুণী। তার ভিত্তিতেই এদিন রাতে 'ননসেন' শমীককে গ্রেপ্তার করল বেহালা থানার পুলিশ।
নির্যাতিতার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, শমীকের অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে থাকাকালীনই এই ঘটনাটি ঘটে। ইনফ্লুয়েন্সারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কর্ণপাত করেননি বলে জানান তিনি।
পুলিশের কাছে তরুণীর অভিযোগ, গত সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ তিনি বন্ধু শমীকের ফ্ল্যাটে যান। কথাবার্তা বলার পর যখন তিনি রাত ন’টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই তাকে আটকান শমীক। যুবতী অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছেন কেন, সেই প্রশ্ন করে তার মোবাইল কেড়ে নেন। এর পর শমীক তাকে মারতে থাকেন। জোর করে তাকে ফ্ল্যাটের একটি ঘরে আটকে রাখেন। খুনের হুমকি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ। এমনকী, তাঁর পোশাক খোলার চেষ্টা করে শ্লীলতাহানিও করেন শমীক। অনুমতি ছাড়াই স্পর্শ করার অভিযোগও তুলেছেন ওই তরুণী। তবে নির্যাতিতার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, শমীকের অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে থাকাকালীনই এই ঘটনাটি ঘটে। ইনফ্লুয়েন্সারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কর্ণপাত করেননি বলে জানান তিনি। সারারাত ধরে অত্যাচারের কারণে মুখ, আঙুল-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে, বলেও পুলিশকে জানান ওই তরুণী। তাঁর দাবি, সকালে উঠে চোখও ভালো করে খুলতে পারছিলেন না। বিকেল পর্যন্ত তাঁকে ফ্ল্যাটে আটকে থাকতে হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার হুমকিও দেওয়া হয় তাঁকে বলে দাবি করেন ওই তরুণী। তবে সাহস করেই পুলিশের দ্বারস্থ হন শমীকের বান্ধবী। এই ঘটনায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
শমীক অধিকারী, ছবি- সোশাল মিডিয়া
যদিও যদিও এহেন অভিযোগ এদিন সকালেই মিথ্যে বলেই দাবি করেছিলেন শমীক। এই ঘটনায় সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, “এতদিনের সম্পর্ক আমাদের। আমার প্রেমিকা ছিলেন, দু’দিন আগে চূড়ান্ত অশান্তি হয়। এখনও ঝামেলা চলছে, মানসিক সম্বল হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বুঝতে পারছি না কেন! প্রেমিকার সঙ্গে যদি ঘনিষ্ঠ মেলামেশা থাকে তাহলে সেটা তো তাঁর অনুমতি নিয়েই হবে! এতদিনের সম্পর্ক, বিষয়টিতে অবাক হচ্ছি।”
অন্যদিকে শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘তিনি যে-ই হোন, একাজ করা যায় না। এই অভিযোগের সত্যতা থাকলে সেটার উপযুক্ত তদন্ত হোক। শাস্তি হোক। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছে বলে শুনেছি। আমাদের কাছে যদি অভিযোগকারিণী জানান বা তাঁর কোনও সাহায্য কখনও প্রয়োজন হয়, অবশ্যই পাশে থাকব।’
