২০০২ সালে অস্কারের মঞ্চে ভারতের নাম তুলেছিলেন, সেই পরিচালকের হাতেই এবার আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের 'মশাল' সঁপে দিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। ৫৭তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া'র ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হলেন আশুতোষ গোয়ারিকর। শুক্রবার দুপুরে এহেন 'বিগ ফ্রাইডে নিউজ' ভাগ করে নেওয়া হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে।
বলিউড তথা সমূহ ভারতীয় সিনেদুনিয়ার স্বনামধন্য পরিচালকদের তালিকায় আশুতোষ গোয়ারিকর (Ashutosh Gowariker) নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল মুখ। যাঁর কেরিয়ার গ্রাফে 'লগান', 'স্বদেশ' থেকে 'যোধা আকবর'-এর মতো একাধিক সুপারহিট সিনেমা রয়েছে। এদিন সেই পরিচালকের নাম করেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে জানানো হল, "ভারতীয় সিনেমায় গোয়ারিকরের অসামান্য অবদান রয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সমাদৃত একজন পরিচালক। বিগত কয়েক দশক ধরেই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া-র (IFFI) সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। যা কিনা সিনেশিল্পের বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সিনেসংস্কৃতির প্রতি আশুতোষ গোয়ারিকরের গভীর অনুরাগ ও সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন।" উল্লেখ্য, গত দু'বছর সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টর পদ সামলেছেন শেখর কাপুর। তবে এবার সেই দায়িত্ব গেল আশুতোষ গোয়ারিকরের হাতে।
"১৯৮৪ সালে একজন আম দর্শক হিসেবে এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম। তখন থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। শেষবার ২০২৪ সালে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জুরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সবটাই আমার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা...।"
৫৭তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া'র ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হলেন আশুতোষ গোয়ারিকর।
এদিকে তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে বড় দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক নিজেও। তিনি জানিয়েছেন, "এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ক্রমবিকাশের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বলে মনে হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে একজন আম দর্শক হিসেবে এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম। সেই থেকে দীর্ঘদিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। শেষবার ২০২৪ সালে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জুরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সবটাই আমার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। IFFI উৎসবের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার কাছে যতটা সম্মানের, ততটাই দায়িত্বের বিষয়।"
আশুতোষের সংযোজন, "১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে গত কয়েক দশকে একাধিক উদ্যোক্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, লালিত এবং প্রসারিত হয়েছে, তাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার কাছে বিশাল সম্মানের এবং গর্বের। আর এই সম্মানের সাথেই যুক্ত হয়েছে এক নতুন ও গভীর দায়িত্ববোধ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং গোয়া সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।" উল্লেখ্য ফি বছরের মতো এবারেও গোয়াতেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে IFFI। যে 'রাজসূয় সিনেযজ্ঞ' সামলানোর দায়িত্ব পেলেন বলিউড পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর। খবর প্রকাশ্যে আসতেই সিনেপাড়ার সেলেবরা শুভেচ্ছায় ভরিয়েছেন পরিচালককে।
