নিজেকে বিভিন্ন স্বাদের চরিত্রে বরাবর ভাঙতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এবার তিনি মহিলা প্রোমোটার। 'প্রোমোটার বৌদি' ছবির প্রচারে এসে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে কথোপকথনে অভিনেত্রী স্বস্তিকা (Swastika Mukherjee)।
‘কালীপটকা’-র পরেই ২৭ ফেব্রুয়ারি আসছে ‘প্রোমোটার বৌদি’। যে পেশায় পুরুষের আধিক্য বেশি। তেমন সব চরিত্রে আপনি। তাহলে আপনার সহ-অভিনেতারা কী করবে?
...হ্যাঁ, সেটাই। আমার এই রোল শিফটটা খুব ভালো লাগছে। দারুণ এনজয় করছি আমি। কাকতালীয়ভাবে পরপর দুটো প্রোজেক্ট মুক্তি পাচ্ছে। গ্যাংলিডার হোক বা প্রোমোটার, এগুলো সবই পুরুষচালিত পেশা, সেখানে একজন মহিলাকে এই পেশায় দেখা গেলে সেটা ব্যতিক্রম। তবে এই দুটো কাজ করতে গিয়ে এমন অনেক ব্যতিক্রমী মহিলাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হল। মহিলা বাস ড্রাইভার, মহিলা ফায়ার ফাইটার, মহিলা ডোম। এবং আমাদের শহরে বোধহয় একজন বা দু’জন মহিলা প্রোমোটার আছেন। এই কাজটা করতে না এলে জানতেই পারতাম না পুরুষের অধীনে যে পেশা সেখানে এক, দু’জন হলেও মহিলা আছে। গতানুগতিক যে ছবি তার বাইরে গিয়ে এই ধরনের ছবি যদি ব্যবসা করে তাহলে আরও ব্যতিক্রমী কাজ করার সাহস তৈরি হবে পরিচালক, প্রযোজকদের মধ্যে। না হলে কেবল ট্রেন্ড ফলো করেই কাজ হবে। বাংলায় মহিলাদের এমন চরিত্রে কাস্ট করা খুব একটা হয়না। তবে শুরুটা হয়েছে বলা যায়।
প্রোমোটার বললেই অসৎ, টাকা কারচুপি করবে, এই ছবিতে আপনি কেমন প্রোমোটার?
...হ্যাঁ, ঠিকই প্রোমোটার মানেই তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্থ, তেমনই মনে হয়। এই ছবিতে রজতাভ দত্ত মানে রনিদার চরিত্রটা পুরোপুরি ভিলেনের। টিপিকাল ভিলেন বললে যা যা মনে হয়, আর একটু আগে যা যা বিশ্লেষণ দিলে প্রোমোটার শব্দর সঙ্গে সেই পুরো দায়িত্বটাই রনিদা নিয়েছে। আমি উল্টোদিকে আছি। অর্থ উপার্জন করা মূল জায়গা হলেও আমার যে চরিত্র (‘শান্তি’) সে মানুষকে আগলে রাখতে চায়। প্রতি মানুষের স্বপ্ন হল একটা বাড়ি। বাড়ি বানাতে গিয়ে টাকা চোট হয়েছে এমন খবর প্রায়ই চোখে আসে। আর এই ছবির ‘প্রোমোটার বৌদি’ সেটা আটকাতে চায়, রুখতে চায়। মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয় সে বাঁচাতে চায়। আর ‘শান্তি’র লড়াইটা শক্ত, কারণ পুরুষ শাসিত পেশায় সে একা একজন মহিলা।
সৌর্য দেবের এই ছবিতে হ্যাঁ বললেন কেন?
টলি অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব চক্রবর্তী।
...নতুনদের সঙ্গে কাজ আমি সবসময়ই করে এসেছি, বরং বেশি কাজ করেছি। আর এই ছবিতে একজন মহিলা প্রোমোটার, এটাই আমাকে একটা কিক দিয়েছিল বলতে পারো। আর এমন নয় যে ‘শান্তি’ সিঙ্গল মহিলা যে প্রোমোটারি করছে। সে বিবাহিত, তার জমজ বাচ্চা আছে, তার সংসার আছে। সে সংসারও করে, আর নিজের কাজ প্রোমোটারিও করে। সে শাখা, সিঁদুর পরে রেলাবাজিটা করে। আর সিনেমায় যেই কোনও মহিলাকে কোনও তথাকথিত ‘পৌরষচিত’ কাজটা করছে দেখানো হয়। তখনই তাকে জিনস, শার্ট অর্থাৎ পুরুষের পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়।
পুরুষের পৃথিবীতে প্রবেশ করতে গেলে পুরুষের মতো সাজতে হবে, কেন ?
...মহিলাদের যখনই অ্যাকশন দৃশ্যে দেখি তখনই দেখি তারা প্যান্ট বা লেদার জ্যাকেট পরে রয়েছে। ‘কালীপটকা’ বা ‘প্রোমোটার বৌদি’– দুটোর ক্ষেত্রেই সেটা করা হয়নি, এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ‘শ্রীমা’ অথবা ‘শান্তি’ নিজের ব্যক্তিত্বের বাইরে বেরিয়ে পুরুষ মানুষের মতো কিছু করে না। আমার মনে হয় এইভাবে ক্লিশে বা স্টিরিওটাইপ ব্রেক করা যেতে পারে।
ক্লিশে ভাঙার জন্য বেশিরভাগ পরিচালক আপনার কাছেই আসবেন, এটাই এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে
হ্যাঁ , মানে রেলা মারতে হলে তো আমিই আছি (হাসি)।
টলি অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব চক্রবর্তী।
এখন ইন্ডাস্ট্রির সকলেই একটা প্ল্যান বি ভাবে। অভিনয়, সিনেমা ছাড়া অন্য রোজগারের পথ। আপনার তেমন ভাবনা আছে?
... না, আমি কখনও ভাবিনি। আমার কোনও প্ল্যান বি নেই। আর ভাবিনি কারণ আমার এই ‘অপশন’ বিষয়টা খুবই বিরক্তিকর লাগে সাধারণত। প্রতিটা জিনিসের যে এতগুলো করে অপশন, এটা না হলে ওটা, ওটা না হলে সেটা, এই বিষয়টার সঙ্গেই আমি কমফর্টেবল নই। আমি একটা বিষয়ই মাথায় নিই, সেটাই মন দিয়ে করতে চাই। অভিনয় করে তো পঁচিশ বছর কাটিয়ে ফেললাম। অন্য কোনও কিছুর প্রতি ইন্টারেস্ট তৈরি করার সময়ও পাইনি। অন্য কী আর ভালো করতে পারব সেটাও আমি জানি না। আমার দ্বারা ব্যবসাটা কোনওদিনই হবে না। সেটা আমি জানি। সেই কনফারমেশন আমি আগেই পেয়ে গিয়েছি । আমার সিএ বা অ্যাকাউন্টট্যান্টকে যেভাবে জ্বালাই, ওরা আমাকে আজকে একটা জিনিস বোঝালে, পরদিন আমি আবার সেই একই কথা জিজ্ঞেস করি। কিছু মাথায় রাখতে পারি না। আমি যে কাজটা পারি আমি সেটাতেই আরও আরও পারদর্শী হতে চাই।
আপনাকে নানা চরিত্রে টাইপকাস্ট করা হয়েছে, এমন কোনও চরিত্র আছে যেটা আপনি আর করতে চান না!
...না, তেমন কিছু নেই। আমার মাতৃত্বের যা বয়স তার তিন গুণ ‘মা’য়ের চরিত্রে আমার অভিনয় করা হয়ে গিয়েছে। আমার কখনও মনে হয় না যে মায়ের চরিত্র করব না, কারণ সব মা তো একরকম হয় না। আমার একটা লিস্ট আছে কী করা হয়নি। সিরিয়াল কিলার করিনি, নার্স করিনি, জেলের কয়েদি করিনি, স্কুল টিচার করিনি, পুলিশের চরিত্রি করিনি, এইরকম অনেক আছে।
টলি অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব চক্রবর্তী।
দোল তো সামনে, আপনার জীবনের রং এখন কেমন?
... আমার জীবনে সবসময়ই রামধনুর সাত রং থাকে। আমার জীবনে সবসময় সব রং আছে। ওই কালো, ধূসর রং আমার পছন্দ না, আমি পরিও না।
আর প্রেমের রং?
...প্রেমের রং বোধহয় লাল। লাল আমার এমনিতেও ভালো লাগে। লাল লিপস্টিক পরতে ভালোবাসি, আমার লাল গোলাপ ফুল খুব পছন্দের। লাল রঙের মধ্যে একটা স্ট্রেন্থও আছে। আর আমার জীবনে সবসময়ই প্রেম থাকে। আমি কোনও স্লট ফাঁকা রাখি না। 'অল স্লটস আর অলওয়েজ ফুল' কিংবা ওই সিনেমার টিকিট কাটতে গেলে যেটা বলে সেই ফাস্ট ফিলিং বলতে পারো। প্রেমের স্লট 'অলওয়েজ ফাস্ট ফিলিং'। একটু নতুন কিছুর আশাও থাকে, আবার প্রেমের সিট ভর্তি হয়ে যাচ্ছে সেটাও রইল (হাসি)।
ধরুন ইন্ডাস্ট্রিতে আপনাকে ফ্রি হ্যান্ড দিতে বলা হল, যা ইচ্ছে প্রোমোট করুন। কী করবেন?
... কী প্রোমোট করতে চাইব? বলছি...ইন্ডিপেনডেন্ট ভাবে ছবি হওয়া দরকার।
