রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই মেসি কাণ্ডে আইনি জটে জর্জরিত অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। এযাবৎকাল আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও একাধিকবার পুলিশি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে চূড়ান্ত টালবাহানার পর শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এমন আবহেই অরূপ বিশ্বাসের উদ্দেশে অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের (Bhaswar Chatterjee) বিদ্রুপবাণে পেটে খিল ধরেছে নেটভুবনের!
বুধবার যুবভারতী কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠায় লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ম্যানেজমেন্ট টিম। এমন আবহে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও অরূপকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অবিশ্বাস্য গোল হ্যাটট্রিক করেন লিওনেল মেসি। পয়লা ম্যাচেই ফুটবল মহাতারকার এহেন রাজকীয় অভিযানে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনায় ফুটছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এমতাবস্থায় বিশ্বকাপে মেসি গোলের রেকর্ড ছুঁতেই গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে সোশাল পাড়ার চর্চায় অরূপ বিশ্বাস। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিয়ে এইমুহূর্তে ট্রোল, মিমেরও অন্ত নেই! এর মাঝেই বুধবার যুবভারতী কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠায় লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ম্যানেজমেন্ট টিম। এমন আবহে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও অরূপকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। বিশ্বাসদের তত্ত্বাবধানে ফি বছর টলিপাড়ায় আয়োজিত জমকালো ভাইফোঁটার উৎসবের কথা মনে করিয়ে অভিনেতার প্রশ্ন, "এই চূড়ান্ত সাফল্য উদযাপন করতে বাল্যবন্ধুর অনুপ্রেরণায় বিরাট ভাইফোঁটার উৎসব পালন করতে চলেছেন কি মেসি?" লক্ষ্মীবারে অরূপের থানায় হাজিরা দেওয়ার আবহে ভাস্বরের এহেন বিদ্রুপবাণ দাবানল গতিতে ভাইরাল নেটভুবনে। অভিনেতার রসবোধে পেটে খিল ধরেছে নেটমহলেরও।
গত ডিসেম্বরে যুবভারতীতে 'অভিশপ্ত' মেসি সফর।
গত ডিসেম্বরে ভারত সফরে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে সামনে থেকে একঝলক দেখার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মোটা টাকা খরচ করে টিকিটও কেনেন। কিন্তু চূড়়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে সময়ের আগেই যুবভারতী ছাড়েন মেসি। তারপর ক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর চালান দর্শকরা। এই ক্ষোভের কারণ ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কারণ, ঘটনার দিন শুরু থেকে মেসির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মেসির সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি-ভিডিও। তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি দেখা যায়। কিন্তু অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয় মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। তিনি ছাড়া পেতেই অরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। বলেন, গা জোয়ারি করে, প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অরূপ। সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বিচার পেতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শতদ্রু। তবে এই মুহূর্তে বেপাত্তা অরূপ। হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও এযাবৎকাল বারবার পুলিশি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এমন আবহে গোলের হ্যাটট্রিকের পরই কিংবদন্তি ফুটবলারের নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমের তরফে যুবভারতী কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় আগে থেকেই একটি নিয়ম ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি থাকতে পারবেন না। কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটরের থাকার অনুমতি ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে পড়েন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় আগে থেকেই একটি নিয়ম ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি থাকতে পারবেন না। কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটরের থাকার অনুমতি ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে পড়েন। তিনি এমন কিছু কাজ করেন, যা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। অভিযোগ, ছবি তোলার সময় তিনি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার এবং অহেতুকভাবে স্পর্শ করেন। এর মধ্যে মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখার ঘটনাও ছিল। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার শেষমেশ থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস।
