দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে দিল্লির রাজপথে যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছে, তখন ঠান্ডাঘরে বসে সেলেবমহল কি 'তামাশা' দেখছেন? প্রশ্নের মুখে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রথমসারির একাংশ। 'ককরোচ জনতা পার্টি'র সমর্থনে মুখ না খোলায় বিগত কয়েক দিনে একাধিক তারকাকে কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। এবার নিজের অনুরাগীমহলের রোষানলে ক্যাটরিনা কাইফ।
'প্রিয় তারকার থেকে আমাদের কাছে দেশভক্তি আগে।'
পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ।
জুলাই মাসের গোড়া থেকেই নিট কেলেঙ্কারি-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন পড়ুয়ারা। যাদের নেতৃত্ব দেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা পঁচিশ দিন ধরা চলা এই বিক্ষোভ আরও নাটকীয় মোড় নেয় গত সোমবারের 'সংসদ চলো' অভিযানকে কেন্দ্র করে। বিক্ষোভকারী 'আরশোলা'দের রুখতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস, জলকামান চালায় পুলিশ। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সরব হয়েছেন দেশের বিশিষ্টমহলের একাংশ। শাবানা আজমি, জিনাত আমান, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপ, অরিজিৎ সিং থেকে বলিউডের বর্তমান প্রজন্মের একাংশও সুর চড়িয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আন্দোলন নিয়ে দেশের অন্দরে ঝড় বয়ে গেলেও 'টুঁ' শব্দটি করেননি ক্যাটরিনা। সেই প্রেক্ষিতেই নায়িকার ভক্তমহলের একাংশ রেগে কাঁই! তাঁদের মতে, 'প্রিয় তারকার থেকে আমাদের কাছে দেশভক্তি আগে।' যার রোষ গিয়ে পড়েছে নায়িকার ফ্যানপেজেও। পড়ুয়াদের হয়ে মুখ না খোলায় ভক্তরা নিজেরাই ক্যাটরিনার ওই ফ্যানপেজ বন্ধ করে দিয়েছে।
"আপনার কঠিন সময়ে আমরা আপনার পাশে ছিলাম, কিন্তু আজ যখন আপনার সমর্থনের প্রয়োজন, আপনি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।..."
ক্যাটরিনা কাইফ
দীর্ঘদিন ধরেই সোশাল মিডিয়ায় 'ক্যাথোলিক_ ফ্যানস' নামে একটি পেজ বিখ্যাত। যেখানে এযাবৎকাল চোখে পড়ত ক্যাটরিনা কাইফের গতিবিধির সমস্ত খবরাখবর। কিন্তু 'ককরোচ' বিক্ষোভের আগুনে সেই ফ্যানপেজই বর্তমানে 'লাটে উঠেছে'! ওই ফ্যানপেজের স্রষ্টা খোদ এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন, "শৈশব থেকেই আমি আপনার ভক্ত, কিন্তু আমরা, অর্থাৎ যেসব ভারতীয় শিক্ষার্থীরা আপনাকে মন থেকে ভালোবাসি, তাদের হয়ে আপনি একটা কথাও বলতে পারলেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস বা মেরুদণ্ড আপনার নেই। আপনার কঠিন সময়ে আমরা আপনার পাশে ছিলাম, কিন্তু আজ যখন আপনার সমর্থনের প্রয়োজন, আপনি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। আমি আপনাকে আনফলো করার পাশাপাশি এই ফ্যানপেজটিও বন্ধ করে দিচ্ছি। আপনি এর যোগ্য নন।" ওই পোস্টের মন্তব্য বাক্সেই আরেকপ্রস্থ সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে ক্যাটরিনাকে।
'ভারতীয়দের প্রতি টান নেই? সেসব মানুষদের নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই, যারা আপনাকে সেলেব বানালেন?'...
কারও মন্তব্য, 'ভারতে বাস, ভারতেই কাজ, তবুও ভারতীয়দের হয়ে কথা বলার সাহস নেই...।' কেউ বা বললেন, 'পেজের অ্যাডমিনের প্রতি শ্রদ্ধা।' কেউ বা প্রশ্ন ছুড়লেন, 'আপনিও তো মা, নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছেন না?' এহেন নানা কটুক্তিবাণে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। কর্মসূত্রে মুম্বই নিবাসী হলেও অভিনেত্রী জন্মেছিলেন ব্রিটিশ অধ্যুষিত হংকংয়ে। 'সেজন্যই কি ভারতীয়দের প্রতি টান নেই? সেসব মানুষদের নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই, যারা আপনাকে সেলেব বানালেন?' প্রশ্নের মুখে ক্যাটরিনা কাইফ। পালটা নায়িকার সমর্থনে 'গণতান্ত্রিক অধিকার, প্রাপ্তবয়স্কদের বাকস্বাধীনতা'র কথা মনে করিয়ে দিলেন তাঁর অনুরাগীমহলের একাংশ।
