shono
Advertisement
Honey Singh

'ড্রাগ আমাকে নষ্ট করেছে', এবার বিজেপির মাদকবিরোধী প্রচারে বড় দায়িত্বে 'নেশামুক্ত' হানি সিং

'ড্রাগ আমাকে নষ্ট করেছে', বছর কয়েক আগে বলেছিলেন হানি সিং! এবার পাঞ্জাবকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে সেই ব়্যাপারেই ভরসা বিজেপির।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:01 PM May 26, 2026Updated: 06:26 PM May 26, 2026

একসময়ে মাদকের করাল গ্রাসে ডুবে নিজেকেই শেষ করতে বসেছিলেন! খুব আক্ষেপের সুরে হানি সিং (Honey Singh) বলেছিলেন, "ড্রাগ আমাকে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে...।" কিন্তু নিজের চেষ্টায় শেষমেশ নেশামুক্ত হয়ে ফের মূলস্রোতে ফিরতে পেরেছেন খ্যাতনামা ব়্যাপার। আর শিল্পীর এহেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পকেই এবার পাঞ্জাবের মাদকাসক্ত তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।

Advertisement

"এই বিপদ থেকে পাঞ্জাবকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। পাঞ্জাব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে মাদকের কারণে। যার জেরে পরিবারগুলো প্রায় ধ্বংস হতে বসেছে,...।" 

মঙ্গলবার ব়্যাপার হানি সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন পাঞ্জাবের বিজেপির নেতা তরুণ। খবর, সেখানেই রাজ্যে মাদকের ভয়াবহ প্রকোপ নিয়ে উভয়ের আলোচনা হয়। এবং পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার জন্যে হানির সাহায্য প্রার্থনা করেন বিজেপি নেতা। ব়্যাপারকে পাশে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, 'পাঞ্জাবের ভূমিপুত্রই এবার বদল আনবে। ওঁর কণ্ঠস্বরের মতোই ওঁর ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম রাজ্যের মাদকাসক্ত তরুণদের নেশামুক্ত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারে।" এহেন প্রস্তাবে সুবজ সংকেত দিয়ে র‍্যাপার হানি সিং ওরফে হৃদেশ সিংয়ের মন্তব্য, "এই বিপদ থেকে পাঞ্জাবকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। পাঞ্জাব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে মাদকের কারণে। যার জেরে পরিবারগুলো প্রায় ধ্বংস হতে বসেছে, এমনকী তরুণ প্রজন্মও ধ্বংসের মুখে। আমরা পাঞ্জাবকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার উপায় খুঁজছিলাম। স্যার তরুণ চুঘ ইতিমধ্যেই এবিষয়ে অনেকটা কাজ এগিয়েছেন।"

মঙ্গলবার ব়্যাপার হানি সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন পাঞ্জাবের বিজেপির নেতা তরুণ চুঘ।

"মাদকের চোরাস্রোত সুনামির মতো পাঞ্জাবের তরুণ সমাজকে গিলে খাচ্ছে। হানি সিং যদি মাদকের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, তবে পাঞ্জাবের প্রতিটি সন্তানই সেটা পারবে।"

এদিকে হানি সিংয়ের প্রশংসা করে বিজেপি নেতার মন্তব্য, "কুসঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর, মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই মানুষটি টানা আট বছর একপ্রকার প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। এরপর শুধু ফিরে আসেসনি বরং আবারও সাফল্যের শিখরে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন।" এখানেই শেষ নয়, 'মাদকাসক্ত' পাঞ্জাবের এহেন সংকটের কথা তুলে ধরে তরুণ চুঘের মন্তব্য, "মাদকের চোরাস্রোত সুনামির মতো পাঞ্জাবের তরুণ সমাজকে গিলে খাচ্ছে। হানি সিং যদি মাদকের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, তবে পাঞ্জাবের প্রতিটি সন্তানই সেটা পারবে।" এদিকে হানি সিংকে পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের মুখ করার পরই নেটভুবনের একাংশ ব়্যাপারের অতীত কাহন মনে করিয়ে দিয়েছেন। যেসময়ে হানি নিজেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

হানি সিং। ফাইল ছবি

হানি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাদকের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই তাঁর মাদকের প্রয়োজন হত। এমনকী রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও তিনি মাদক সেবন করতেন। 

অতীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে নিজের মাদকাসক্তি প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন হানি সিং। ব়্যাপার জানান, বলিউডের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তাঁকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। হানি সেসময়ে বলেন, "আমি তখন খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলাম, কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মাদক গ্রহণ। ধীরে ধীরে এটি আমাকে এমনভাবে নষ্ট করেছে, যে আমি বুঝতেই পারিনি। প্রথম কয়েকবার সেবনের পর কিছুই বুঝতে পারিনি। কিন্তু তার পর আসক্ত হয়ে পড়ি। তাই ছোট ভাই-বোনদের বলছি, বিশেষ করে শুকনো মাদক থেকে দূরে থাকো।"

হানি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাদকের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই তাঁর মাদকের প্রয়োজন হত। এমনকী রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও তিনি মাদক সেবন করতেন। স্মৃতি হাতড়ে সেকথা বলতে গিয়েই হানির আক্ষেপ, "আমি চাই না এমন অভিজ্ঞতা আর কারও হোক, এমনকী আমার শত্রুরও যেন না হয়। আমি সেসময়ে এতটাই নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি যে, বাবা-মার থেকেও দূরত্ব বজায় রাখতাময পাছে তাঁরা বুঝে ফেলেন। এই মাদকের জন্যই প্রাক্তন স্ত্রী শালিনী তলওয়ারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। ২০১১ সালে বিয়ের পর প্রথম ৯ মাস আমরা ভালোই ছিলাম। তারপর সাফল্য এল, আর পরিবারকেও ভুলে গেলাম আমি! এখন নিজের ভুল বুঝতে পারি।" এবার সেই শিল্পীকেই মাদকবিরোধী প্রচারের 'মুখ' করল বিজেপি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement