'ধুরন্ধর'-এর গগনচুম্বী সাফল্যের মাঝেই একের পর এক বিতর্ক। পর্দার 'হামজা আলি মাজার' ওরফে রণবীরকে বলিউডে নিষিদ্ধ করেছে 'ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ'। নেপথ্যে ফারহান আখতারের সঙ্গে দীর্ঘ 'ডন ৩' বিতর্ক। অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়েও 'ধুরন্ধুর'-এর সাফল্যের পর ছবি থেকে সরে দাড়ানোর অভিযোগ অভিনেতার বিরুদ্ধে। সোম সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে এই ঘোষণা করা হয়। ঘটনার চব্বিশ ঘন্টা পেরনোর আগেই এই ছবির সঙ্গে যুক্ত আরও এক ব্যক্তিকে ঘিরে মরাত্মক অভিযোগ। সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনার জন জোসেফ ওরফে জোয়েলের বিরুদ্ধে চণ্ডীগড় পুলিশ ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন নাগপুরের এক তরুণী।
অভিযোগ, ছবির শুটিং চলাকালীন অভিযুক্ত তাঁকে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। শুধু তাই নয়, জোয়েলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও করেন। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই সেক্টর-১৭ থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭৪, ৭৯, ১২৩, ১২৬(২) সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেই খবর। পুলিশের কাছে নাগপুরের ওই তরুণী জানান, ২০২৫ সালে 'ধুরন্ধর'-এর শুটিং চলছিল চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৮-এর টেগোর থিয়েটারে। সেই সময় ছবির প্রোডাকশন টিমের সদস্য জন জোসেফের সঙ্গে পরিচয় হয়। অভিযুক্ত তাঁকে ছবিতে ভালো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে একাধিক প্রজেক্টে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
ধুরন্ধর-এর দৃশ্য
ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরপর ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জন জোসেফ তাঁকে সেক্টর-১৭-এর একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, মুখ খুললে ক্ষতি করার হুমকি দেয় অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত এগচ্ছে এবং সকল তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত জন জোসেফকে গ্রেফতার করা হয়নি তবে খুব শীঘ্রই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
সিনেমার দৃশ্য
উল্লেখ্য, এটি প্রথম নয় চলতি বছরের জানুয়ারিতেও 'ধুরন্ধর' ছবির সঙ্গে যুক্ত নাদিম খান নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশে ধর্ষণ ও দীর্ঘদিন যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এক গৃহকর্মী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করলে পুলিশ পরে গ্রেফতারও করে। এছাড়াও, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও একটি মামলা যেখানে ওই মহিলার অভিযোগ, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দশ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করে। প্রথমে ভার্সোভা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মালভানি থানায় স্থানান্তর করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
