৭৯তম বাফটা পুরস্কারের মঞ্চে ইতিহাস মণিপুরের। 'আর্কো', 'লিলো অ্যান্ড স্টিচ', 'জুট্রোপলিস ২'র মতো হলিউডি সিনেমাকে টেক্কা দিয়ে বাফটা পুরস্কার পেল ফারহান আখতার এবং রীতেশ সিধওয়ানি প্রযোজিত মণিপুরি ছবি 'বুং'। অশান্ত মণিপুরের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিনেমা ইতিমধ্যেই পশ্চিমী বিনোদুনিয়ার লাইমলাইটে। আর সেই পুরস্কারের মঞ্চেই মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা জানালেন পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী।
গল্পের প্রেক্ষাপট মণিপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার এক প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানকার বাসিন্দা খুদে বুং। তাকে ঘিরেই এই সিনেমার গল্প। যেখানে ছোট্ট বুং তার মা'কে (বালা হিজাম) এক সারপ্রাইজ দিতে চায়। তার জন্য খুদে মাথায় বড় পরিকল্পনাও করে ফেলেছে সে। সেই উপহার কী না, অশান্ত মণিপুরে খুদে বুং তার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজছে। এবং তার একটাই লক্ষ্য, বাবাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে গোটা পরিবারের রিইউনিয়ন ঘটানো। তবে খুদে বুংয়ের স্বপ্নে কঠোর বাস্তবের কুঠারাঘাত পড়ে যখন সে মণিপুরের সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা করে। এহেন মর্মস্পর্শী কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে 'বুং' ছবিতে। অতিনাটকীয়তা বর্জিত এই সিনেমা ইতিমধ্যে 'বাফটা'র মঞ্চে লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে। 'বেস্ট চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম' বিভাগে সেরার মুকুট উঠেছে 'বুং'য়ের মাথায়। আর এহেন স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অশান্ত মণিপুরে শান্তি ফেরার কামনা করেন পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী।
‘বাফটা’র ট্রফি হাতে টিম ‘বুং’। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল প্রেক্ষাগৃহে দাঁড়িয়ে 'বাফটা' পুরস্কার হাতে লক্ষ্মীপ্রিয়া বলেন, "এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে আমি মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা জানাচ্ছি। আমার প্রার্থনা, আমাদের সিনেমার ছোট্ট বুংয়ের মতো মণিপুরের সমস্ত বাস্তুচ্যুত শিশুরা যেন তাদের নির্মল সহজ-সরল শৈশব ফিরে পায়। ভবিষ্যতে ওদের সব স্বপ্ন পূরণ হোক। তাই 'বাফটা'র মঞ্চকে ধন্যবাদ, এই স্বীকৃতি আমাদের কাছে পুরস্কারের থেকেও অনেক বেশি আশার আলো।" উল্লেখ্য, এই ছবিতে অভিনয় করে খুদে মণিপুরী শিল্পী গুগুন কিপগেন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সিনেআঙিনার চর্চায় উঠে এসেছে। সিনেমার প্রযোজক ফারহান আখতারও 'বাফটা' পুরস্কারপ্রাপ্তিতে ততোধিক উচ্ছ্বসিত। রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল প্রেক্ষাগৃহের মঞ্চে গোটা টিমের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, "এই ছবি ভারতের এমন এক অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে তৈরি, যেখানকার খুব কম সিনেমা দেখার সুযোগ পাই আমরা। তাই 'বুং'-এর মতো মর্মস্পর্শী ছবির পাশে থাকার অনুভূতি অসাধারণ।"
