৭৯ তম 'বাফটা'র মঞ্চে ভারতীয় ছবির জয়জয়কার। ফারহান আখতারের 'বুং' (Boong) ছবির সাফল্যে অভিভূত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। X হ্যান্ডেল পোস্টে গোটা টিমকে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।
মমতা লেখেন, "বাফটার মঞ্চে মণিপুরি ছবি 'বুং'-এর জয়জয়কারে আমি সত্যিই অভিভূত। সমস্ত বাধা পেরিয়ে 'বেস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম' বিভাগে পুরস্কার জয়। প্রথমবার কোনও ভারতীয় ছবি এই বিভাগে পুরস্কার জয় করেছে। গোটা টিমকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারা গোটা বিশ্বকে গর্বিত করেছেন।"
‘বেস্ট চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে পুরস্কৃত হয় 'বুং'। এই বিভাগে মনোনীত হয়েছিল ‘আর্কো’, ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’, ‘জুট্রোপলিস ২’-র মতো হলিউডের মেগা বাজেটের ছবি। সকলকে পিছনে ফেলে জয়জয়কার ‘বুং’ ছবির।
রবিবার রাতে লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হলে BAFTA-র পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী পরিচালিত আঞ্চলিক ভারতীয় ছবির জয়জয়কার। ‘বেস্ট চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে পুরস্কৃত হয় 'বুং'। এই বিভাগে মনোনীত হয়েছিল ‘আর্কো’, ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’, ‘জুট্রোপলিস ২’-র মতো হলিউডের মেগা বাজেটের ছবি। সকলকে পিছনে ফেলে জয়জয়কার ‘বুং’ ছবির। পুরস্কার ঘোষণার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন সস্ত্রীক ফারহান আখতার, লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী এবং রীতেশ সিধওয়ানি উপস্থিত ছিলেন। সকলে মিলে ট্রফি নেন।
'বাফটা'র ট্রফি হাতে টিম 'বুং'। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
গল্পের প্রেক্ষাপট মণিপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার এক প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানকার বাসিন্দা খুদে বুং। তাকে ঘিরেই এই সিনেমার গল্প। যেখানে ছোট্ট বুং তার মা’কে (বালা হিজাম) এক সারপ্রাইজ দিতে চায়। তার জন্য খুদে মাথায় বড় পরিকল্পনাও করে ফেলেছে সে। সেই উপহার কী না, অশান্ত মণিপুরে খুদে বুং তার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজছে। এবং তার একটাই লক্ষ্য, বাবাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে গোটা পরিবারের রিইউনিয়ন ঘটানো। তবে খুদে বুংয়ের স্বপ্নে কঠোর বাস্তবের কুঠারাঘাত পড়ে যখন সে মণিপুরের সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা করে। এহেন মর্মস্পর্শী কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে ‘বুং’ ছবিতে। অতিনাটকীয়তা বর্জিত এই সিনেমা ইতিমধ্যে ‘বাফটা’র মঞ্চে লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে। ‘বাফটা’ পুরস্কার হাতে লক্ষ্মীপ্রিয়া বলেন, “এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে আমি মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা জানাচ্ছি। আমার প্রার্থনা, আমাদের সিনেমার ছোট্ট বুংয়ের মতো মণিপুরের সমস্ত বাস্তুচ্যুত শিশুরা যেন তাদের নির্মল সহজ-সরল শৈশব ফিরে পায়। ভবিষ্যতে ওদের সব স্বপ্ন পূরণ হোক। তাই ‘বাফটা’র মঞ্চকে ধন্যবাদ, এই স্বীকৃতি আমাদের কাছে পুরস্কারের থেকেও অনেক বেশি আশার আলো।”
'বাফটা'র মঞ্চে টিম 'বুং'। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
