বৈবাহিক জীবনে সুখের মুখ দেখেননি। বরং পায়ুকামের মতো বিকৃত যৌনতার শিকার হয়েছেন। সহ্য় করতে হয়েছে নানা যন্ত্রণা। মাতৃদিবসেই দুঃখের কথা শোনালেন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি।
অভিনেত্রী লেখেন, "আমার কাছে এই ভিডিওটি শেয়ার করা ছাড়া উপায় নেই। সন্তানকে যেদিন হারিয়েছিলাম সেদিন সম্মান বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। প্রাতিষ্ঠানিক চাপ, বিচ্ছিন্নতা, মানসিক হেনস্তা, অপদস্থ করা এবং আতঙ্ক থেকে বাঁচতে চাই। আমি ২০০৪ সালে ভারতে ফিরে নিজের টাকায় নিজের মাথার ছাদ, বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত ছিলাম। মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা আমার ভাইয়ের জন্য আইনি সহযোগিতা খুঁজছিলাম। আমার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও লেখেন, "অস্ট্রেলিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের নির্দেশিকা সত্ত্বেও তিন সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। আমার সন্তানদের গোপন কোনও ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মগজধোলাই করা হয়। আমি স্বামী ও তাঁর বাবা মিলে মা এবং হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে শেখায়। সপ্তাহদুয়েক আগে অস্ট্রিয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার শুনানির সময় আমি আমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাচ্ছিলাম। মনে পড়ে যাচ্ছিল আমার ভালোবাসা, আত্মত্যাগ, পরিবার প্রতিপালনে আমার যত্নের কথা।"
সেলিনার কথায়, "আদালত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, আমার সন্তানদের ফিরিয়ে আনা হয়নি। আমি যে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিতে পেরেছি… সে হল আমার প্রয়াত সন্তান শামশের। গত সেপ্টেম্বরে ১৫ তম বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসাবে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করি। তার আগের লাগাতার অত্যাচার, নাড়ি ছেঁড়ার যন্ত্রণা সহ্য করেছি।" তিনি আরও লেখেনে, "আমার কষ্টার্জিত অর্থ, সম্পত্তি, আত্মত্যাগের জন্য লড়াই। যা গত ১৫ বছরের দাম্পত্য যা আমি হারিয়েছি।" সবশেষে 'লড়াকু' সেলিনা লেখেন, "আজ আমি প্রয়াত সন্তানের কবরের সামনে ভাঙা হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছি। যেখানে আমি কেঁদেছি, প্রার্থনা করেছি, শক্তি সঞ্চয় করেছি। এটাই আমার মাতৃদিবস। কিন্তু আমি মা অম্বিকা, কালী ও দুর্গার কন্যা। আমি আমার সন্তান, সম্মান, সত্য ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে লড়াই করতে ভারতে ফিরেছি।" বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি মুম্বইয়ে অস্ট্রিয়ান স্বামী পিটারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন সেলিনা।
