২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে 'কালা হিরণ'-এর টিজার। এমনই নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে এও জানিয়ে দিল, যদি ছবির প্রযোজকরা ওই সময়ের মধ্যে তা না সরায়, তাহলে এক্স ও ইউটিউবকেই নির্দেশ দেওয়া হবে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য।
সোমবার শুনানির সময় প্রযোজক অমিত জানির তীব্র সমালোচনা করে উচ্চ আদালত। মন্তব্য করে, ওই টিজার অনলাইনে আসার ফলে সলমন খানের (Salman Khan) সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আদালতের মন্তব্য, "এসব কেমন ধরনের বিষয়বস্তু? মনে হচ্ছে, গতবার কোনও নির্দেশ না দেওয়ায় আপনারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আপনার মক্কেল নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তাঁর আচরণ দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে... এটি যতক্ষণ জনসমক্ষে থাকবে, ততক্ষণই বাদীর (সালমান খান) সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। আমি আপনাদের প্রতি নমনীয় ছিলাম, কিন্তু আপনারা শুধরানোর পাত্র নন। একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমনটা করা যায় না। এমনকী কোনও সাধারণ মানুষের জন্যও এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আর হতে পারে না।"
পাশাপাশি শুনানির সময় ফের ওই টিজার দেখানো হয়। যা দেখে বিচারপতি জ্যোতি সিং বলেন, যে বিষয় এখনও আদালতের বিচারাধীন তা নিয়ে ছবি তৈরি করার অর্থ আদালতেরও অবমাননা। তিনি বলেন, ''ভাবমূর্তি অনেক কষ্টে নির্মিত হয়। একবার সেটা নষ্ট হয়ে গেলে নষ্টই হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার জন্যও এটা দেখানো হলে একজনকে ভুগতেই হবে।''
দু’দশক আগে রাজস্থানের কোঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সলমনের বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দু’ রাত জেলেও থাকতে হয় বলিউড সুপারস্টারকে। তবে সেসময়ে জামিনে ছাড়া পেলেও আজও কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার মীমাংসা হয়নি। ভাইজানের জীবনের সেই ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’এবার বলিউডে পর্দায়। পরিচালক ভরত শ্রীনাতের নির্দেশনাতেই তৈরি হয়েছে ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’। মুক্তির আগেই আইনি জটে ছবিটি। এই পরিস্থিতিতে ছবির টিজার মুক্তি পেতেই আদালতের দ্বারস্থ হন সলমন। সেই মানহানির মামলার শুনানিতেই এই নির্দেশ দিল হাই কোর্ট।
