গুরুতর অসুস্থ প্রবীণ পরিচালক সুজিত গুহ। 'মন মানে না', 'অমর সঙ্গী'র মতো বেশ কিছু হিট সিনেমা বাংলা ছবির দর্শককে উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইস্কেমিক ব্রেন স্ট্রোকের শিকার। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এখন সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহর ভাগ্নে অত্রিজিৎ মৌলিক জানান, "আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছেন। তবে মাঝে মাঝে কথার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। অনেক সময় কাউকে চিনতে পারছেন না। আগামী মঙ্গল-বুধবার রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতে হবে। আরও কিছু রিপোর্ট করানো বাকি আছে।"
ইন্ডাস্ট্রির এই প্রবীণ পরিচালক সুজিত গুহর অসুস্থতার খবর পেয়ে শনিবার সকালেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অচল হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠপুত্র' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মেগাস্টার দেব। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানালেন ভাগ্নে অত্রিজিৎ মৌলিক।
সাহায্যের হাত বাড়ালেন কারা?
তিনি বলেন, "মামার অসুস্থতার খবর পেয়ে আজ সকালে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বাড়িতে এসে দেখা করে গিয়েছেন। আগেরবার যখন ভর্তি করতে হয়েছিল তখন অনেক টাকা বিল হয়েছিল। এবার অজিত দাসের সঙ্গে কথা বলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ওঁর স্বাস্থ্য সাথী কার্ডটা সচল করে দিয়েছেন। এর ফলে চিকিৎসায় অনেক সুবিধা হয়েছে। এসি ওয়ার্ডে থেকেও বিল অনেকটাই কম হয়েছে। আর দেবের অফিস থেকেও আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উনি মামার চিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা সত্যিই অনেকটা স্বস্তির। হরনাথ চক্রবর্তীও বলেছেন কোনওরকম সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাঁকে জানাতে।"
কেমন আছেন সুজিত গুহ?
বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার স্বর্ণযুগের নির্মাতা সুজিত গুহ একাধিক সুপারহিট ছবির স্রষ্টা। কয়েক সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। তবে পরিবার সূত্রে খবর, আপাতত শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পরিচালক অর্কদীপ নাথ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে প্রবীণ পরিচালেকর জন্য নবনির্বাচিত চার বিধায়কের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই সাড়া দিয়েছে সিনেপাড়া।
