'কালা হিরণ' ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। ছবি নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুপারস্টর সলমন খান। প্রায় দু’দশক আগে সলমন খানের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিযোগ। সিনেমা মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারির অনুরোধেই আদালতে ছুটে যান ভাইজান। সিনেমায় সলমনের হাতের আদলে ব্রেসলেট ঘিরে বিতর্ক আরও জোরাল হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পরিচালক নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ছবি কোনওভাবেই সলমনের জীবনের সঙ্গে যুক্ত নয়।
ব্রেসলেট প্রসঙ্গে সাফ যুক্তি, এটা যে কেউ পরতে পারেন। একটা ব্রেসলেট কখনও সিনেমা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারে না। সলমন খান এই ছবির কনটেন্ট নয় সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন পরিচালক। নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী অভিনীত 'ঠাকরে' ছবির প্রসঙ্গ টেনে ব্যখ্যা করেন, জীবনীমূলক ছবির জন্য অভিনেতাদের শারীরিক গঠনে রূপান্তরের প্রয়োজন হয়। পর্দায় বাল ঠাকরের চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে প্রস্থেটিক মেকআপেরও সাহায্য নিতে হয়েছিল নাওয়াজকে। কিন্তু, তাঁর ছবিতে এমন কোনও উপদান নেই যা সলমনের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে।
পরিচালক শ্রীনাথ ভরতের মতে, "ভগবানের সৃষ্টি করা একটা চেহারা আমার পক্ষে তো বদলে ফেলা সম্ভব নয়। আমি ওঁর (কাসিফ ইকবাল) চেহারায় পরিবর্তন আনতে কোনও বিশেষ মেকআপ ব্যবহার করিনি। যাতে ওকে অন্য কারও মতো দেখতে লাগে। যদি কারও মনে হয় পর্দার আয়ান খান অর্থাৎ কাসিফের সঙ্গে সলমন খানের লুকের সাদৃশ্য রয়েছে সেখানে আমার কী করণীয়?"
'কালা হিরণ'-সলমনের জীবনের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি পরিচালকের
সলমনের উদ্দেশে পরিচালকের অনুরোধ, তিনি যেন কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে সিনেমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সবটুকু জেনে নেন। একটা ছবি তৈরির পিছনে অনেক পরিশ্রম থাকে। তাই অযথা চাপ সৃষ্টি করতে আইনি পদক্ষেপ টিমের প্রতিটি সদস্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এদিকে শুক্রবার সলমনের আবেদনের শুনানি স্থগিত করল দিল্লি হাই কোর্ট। গত ৩০ মে ছবিটির ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর আইনি পদক্ষেপ নেন ভাইজান। কিন্তু, আপাতত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। স্বস্তি পেলেন না সলমন, পরবর্তী শুনানি আগামী পয়লা জুলাই।
কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা নিয়ে ছবিকে আইনি নোটিস সলমনের
অভিনেতার আইনজীবী আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। যুক্তি হিসেবে পেশ করেন, ছবির নির্মাতারা সলমনের অনুমতি ছাড়াই তাঁর পরিচয় ও জীবনকাহিনি ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। সলমনের আইনজীবীকে মামলার পূর্ণ কপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে কালা হিরণ নির্মাতাদের আইনজীবীরাও কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন। আদালতকে আরও জানান, তাঁরা নাকি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
